হিন্দু হলেই মন্দিরে যাওয়ার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই! সাফ জানাল সুপ্রিমকোর্ট
নয়াদিল্লি: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। (Supreme Court)আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হিন্দু ধর্ম কোনও আচার-অনুষ্ঠান বা মন্দির দর্শনের উপর নির্ভরশীল নয়। এটি একটি …
নয়াদিল্লি: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। (Supreme Court)আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, হিন্দু ধর্ম কোনও আচার-অনুষ্ঠান বা মন্দির দর্শনের উপর নির্ভরশীল নয়। এটি একটি জীবনযাপনের পথ। হিন্দু হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে গেলে প্রতিদিন মন্দিরে যাওয়া বা জটিল রীতিনীতি পালন করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
এমনকি ঘরের মধ্যে একটি প্রদীপ জ্বালালেই ধর্মীয় বিশ্বাস প্রমাণিত হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি।বুধবার সুপ্রিম কোর্টের নয়জন বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে এই পর্যবেক্ষণ এসেছে। শবরীমালা মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থানে নারীদের প্রবেশাধিকার নিয়ে চলা বিতর্কিত মামলার শুনানির সময় এই কথা উঠে আসে। বিচারপতি বিভা নাগরত্না বলেন, “হিন্দুত্বকে জীবনযাপনের একটি ধারা বলা হয়। হিন্দু হয়ে থাকতে মন্দিরে যাওয়া বা কোনো আচার পালন করা বাধ্যতামূলক নয়।”
আরও দেখুনঃ উচ্চ মাধ্যমিকে ৪৯৬ নম্বর পেয়ে প্রথম আদৃত পাল, প্রথম দশে কত জন পড়ুয়া?
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত আরও যোগ করেন, “একজন ব্যক্তি যদি তার কুঁড়েঘরের মধ্যে একটি প্রদীপ জ্বালায়, তাহলেই তার ধর্মীয় বিশ্বাস প্রমাণিত হয়।”এই মন্তব্যটি শুধু আইনি নয়, সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। হিন্দু ধর্মের অন্তর্নিহিত নমনীয়তা ও অন্তর্ভুক্তির চেতনাকে আদালত স্বীকৃতি দিয়েছে। হিন্দুত্ব কোনো কঠোর নিয়মকানুনের বেড়াজালে আবদ্ধ নয়।
এটি ব্যক্তিগত বিশ্বাস, জীবনের সরলতা এবং আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। শহরের ব্যস্ত মানুষ যিনি প্রতিদিন মন্দিরে যেতে পারেন না, কিংবা গ্রামের সাধারণ মানুষ যিনি ঘরে বসে ভগবানের স্মরণ করেন সকলেই সমানভাবে হিন্দু।আদালত আরও সতর্ক করেছে যে, প্রতিটি ধর্মীয় প্রথাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে নিয়ে আসা উচিত নয়। হিন্দু ধর্মের এই উদার ও নমনীয় স্বভাবকে সম্মান করতে হবে।
অযথা হস্তক্ষেপ করে সনাতন ধর্মের মূল সত্তাকে আঘাত করা যাবে না। এই পর্যবেক্ষণ সনাতন ধর্মকে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক ও নির্বাচিত আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে বলে অনেকে মনে করছেন।এই মামলার প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করা আদালতের অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
আর্টিকেল ২৫ অনুসারে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে। কিন্তু সেই স্বাধীনতা যেন সমাজের অন্যদের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হয়। সুপ্রিম কোর্টের এই মন্তব্য ধর্মকে ব্যক্তিগত স্তরে রেখে তার পবিত্রতা রক্ষা করার পক্ষে সওয়াল করে।