LOC দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা! সেনাবাহিনীর গুলিতে ৭২ হুর পেল পাক জঙ্গি
জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার মেন্ধারের কৃষ্ণা ঘাটি সেক্টরে লাইন অব কন্ট্রোল (Krishna Ghati) বরাবর পাকিস্তানের একটি বড় অনুপ্রবেশ চেষ্টা ভারতীয় সেনাবাহিনীর সতর্ক প্রহরায় সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার ভোরের দিকে …
জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলার মেন্ধারের কৃষ্ণা ঘাটি সেক্টরে লাইন অব কন্ট্রোল (Krishna Ghati) বরাবর পাকিস্তানের একটি বড় অনুপ্রবেশ চেষ্টা ভারতীয় সেনাবাহিনীর সতর্ক প্রহরায় সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার ভোরের দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে সূত্র জানিয়েছে। অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের সঙ্গে ভারতীয় সেনার মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময় চলছে এবং একজন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ সূত্র অনুসারে, মঙ্গলবার সন্ধে নাগাদ কৃষ্ণা ঘাটি সেক্টরের ফরোয়ার্ড এলাকায় সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে সেনার টহলদার দল। তাৎক্ষণিকভাবে সতর্ক হয়ে সেনারা অবস্থান নিয়ে গুলি চালায়। পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) থেকে আসা একদল জঙ্গি এলওসি অতিক্রম করে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢোকার চেষ্টা করছিল।
আরও দেখুনঃ বাংলায় গেরুয়া ম্যাজিকে লালবাজারে আত্মসমর্পণ মাও নেতা মাধাই পাত্রর
ভারতীয় সেনার দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়ায় তাদের অগ্রসর হওয়া আটকে যায়। বর্তমানে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল গুলি বিনিময় চলছে। সেনা সূত্র জানিয়েছে, অন্তত একজন অনুপ্রবেশকারী নিহত হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদের অবস্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হচ্ছে।কৃষ্ণা ঘাটি সেক্টর ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা। এখানকার দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, ঘন জঙ্গল এবং খাড়া ঢাল জঙ্গিদের অনুপ্রবেশের জন্য অনুকূল বলে পরিচিত।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী প্রায়ই এই এলাকায় জঙ্গিদের কভার ফায়ার দিয়ে অনুপ্রবেশের সুযোগ করে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এবারও অনুরূপ কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে সেনা কর্মকর্তারা মনে করছেন। তবে ভারতীয় সেনার অত্যাধুনিক সার্ভেইল্যান্স সরঞ্জাম, নাইট ভিশন ডিভাইস এবং স্থানীয় বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে চেষ্টাটি ধরা পড়ে যায়।এই ঘটনার পর পুন্ছ জেলার বিভিন্ন এলাকায় সেনা ও পুলিশের সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভোর থেকে গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে ঘরের ভিতরে অবস্থান করছেন। এক স্থানীয় যুবক বলেন, “এখানকার মানুষ প্রতিদিন এমন উত্তেজনার মধ্যে বাস করে। সেনাবাহিনী না থাকলে আমাদের অবস্থা কী হতো ভাবতেও ভয় লাগে।”ভারতীয় সেনাবাহিনীর নাগরোটা-ভিত্তিক হোয়াইট নাইট কর্পস এই অভিযান পরিচালনা করছে।
কর্পসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সেনারা উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং এলাকায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। কোনো অনুপ্রবেশকারীকে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকতে দেওয়া হবে না।” এর আগেও কৃষ্ণা ঘাটি সেক্টরে একাধিক অনুপ্রবেশ চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। প্রতিবারই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহায়তায় জঙ্গিরা চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।