রহস্যজনক মৃত্যু মেজর সৈয়দ মুহাম্মদ আলী বুখারির! পাক সেনাবাহিনীর অন্তর্দ্বন্দ্ব ফাঁস
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ভিতরে উচ্চপদস্থ জেনারেলদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও কোন্দল (Syed Muhammad)এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা নাকি লক্ষ্যবস্তু হত্যাকাণ্ডের রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে বাহাওয়ালপুরের মকবুল কলোনিতে …
ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ভিতরে উচ্চপদস্থ জেনারেলদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও কোন্দল (Syed Muhammad)এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা নাকি লক্ষ্যবস্তু হত্যাকাণ্ডের রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে বাহাওয়ালপুরের মকবুল কলোনিতে মেজর সৈয়দ মুহাম্মদ আলী বুখারির মৃত্যু ঘিরে বড় ধরনের বিতর্ক ও সন্দেহের ঝড় উঠেছে। স্বজনরা দাবি করছেন, তাঁর শরীরে বিষক্রিয়ার স্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া গেছে, কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনী এটিকে সাধারণ হার্ট অ্যাটাক বলে চালিয়ে দিতে চাইছে।
এ ঘটনা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে আরও একবার সামনে এনেছে।মেজর সৈয়দ মুহাম্মদ আলী বুখারি পাঞ্জাবের চাকওয়াল জেলার খানপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাহাওয়ালপুরে কর্মরত ছিলেন। স্বজনদের ভাষ্য অনুসারে, তাঁর মৃত্যুর পর শরীরে বিষের লক্ষণ দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন যে, সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চাইছে এবং মৃত্যুর কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাক দেখানো হয়েছে।
আরও দেখুনঃ তিলজলা অগ্নিকাণ্ডে কড়া বার্তা শুভেন্দুর, অবৈধ নির্মাণে বড় পদক্ষেপ?
তাঁরা বলছেন, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বরং লক্ষ্যবস্তু করে হত্যা।স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেজর বুখারি সেনাবাহিনীর মধ্যে চলতি অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে জেনারেল পর্যায়ের অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। ক্ষমতার লড়াই, পদোন্নতি, নীতিগত বিরোধ এবং কিছু স্পর্শকাতর অভিযানের ফলাফল নিয়ে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বেড়েই চলেছে।
এমন পরিস্থিতিতে কয়েকজন অফিসারের রহস্যজনক মৃত্যু বা দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ উঠছে। মেজর বুখারির ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে অনেকে মনে করছেন।বাহাওয়ালপুরের মকবুল কলোনিতে তাঁর বাসায় মৃত্যুর পর ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনা কর্মকর্তারা দ্রুত উপস্থিত হন। কিন্তু পরিবারকে পোস্টমর্টেমের জন্য শরীর হস্তান্তর করতে অনেকটা বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।
স্বজনরা দাবি করেছেন, শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্বাভাবিক দাগ ও লক্ষণ ছিল যা বিষ প্রয়োগের ইঙ্গিত দেয়। একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা জানি এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। কিন্তু কে আমাদের কথা শুনবে? সেনাবাহিনী যা বলবে তাই চূড়ান্ত।”পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মধ্যে এ ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নতুন নয়।
বিশেষ করে গত কয়েক বছরে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সীমান্তে চাপের কারণে জেনারেলদের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসছে। কেউ কেউ মনে করেন, এই কোন্দল এখন ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে গেছে এবং প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মেজর বুখারির মতো মধ্যপদস্থ অফিসারদের এই লড়াইয়ের বলি হতে হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।