রাজ্যে চালু আয়ুষ্মান ভারত, তবে কি এবার বন্ধ হবে স্বাস্থ্যসাথী?
কলকাতা: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার একাধিক প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি চর্চায় ‘স্বাস্থ্যসাথী’। আজ প্রথম ক্যাবিনেট মিট শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু …
কলকাতা: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার একাধিক প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি চর্চায় ‘স্বাস্থ্যসাথী’। আজ প্রথম ক্যাবিনেট মিট শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর ঘোষণা করার পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এবার স্বাস্থ্যসাথীর দিন শেষ?
শহরের নামী বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল এক মিশ্র ছবি। কোনো হাসপাতাল কার্ড নিচ্ছে, কেউ আবার সরকারি নির্দেশের অপেক্ষায় দায় এড়াচ্ছে।
পিয়ারলেস হাসপাতাল: সিইও সুদীপ্ত মিত্র জানিয়েছেন, সরকারি নির্দেশ না আসা পর্যন্ত তাঁরা স্বাস্থ্যসাথী কার্ড গ্রহণ করবেন।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস ক্যান্সার হাসপাতাল: এখানে কেমোথেরাপিতে কার্ড নেওয়া হচ্ছে। তবে রেডিয়েশন বা নতুন সার্জারির ক্ষেত্রে অনুমোদনে দেরি হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের আশা, বুধবারের মধ্যে চিত্রটা পরিষ্কার হবে।
অন্যান্য হাসপাতাল: মুকুন্দপুর ও বাইপাসের কয়েকটি হাসপাতালে ক্যান্সার ছাড়া অন্য বিভাগে কার্ড নেওয়া হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা হেল্পলাইনে ফোন করে কার্ড গ্রহণ না করার অভিযোগও জানাচ্ছেন।
অচলাবস্থা কাটাতে চিকিৎসকদের চিঠি
এদিকে প্রশাসনিক এই অনিশ্চয়তার মাঝে যাতে কোনো রোগী পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরাম’। তাঁদের দাবি, সরকার বদলের জেরে যেন কোনো জীবনদায়ী চিকিৎসা বন্ধ বা স্থগিত না করা হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান
শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিশ্রুতিমতো কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে রাজ্যে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে আয়ুষ্মান ভারত চালু হলেও স্বাস্থ্যসাথীর কার্ডে যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন, তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও কোনো লিখিত নির্দেশিকা নবান্ন থেকে জারি করা হয়নি।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক এই টানাপড়েনের মাঝে এখন সাধারণ মানুষের একটাই দুশ্চিন্তা, শেষ পর্যন্ত পকেটের কার্ডটি সচল থাকবে তো? নাকি চিকিৎসার জন্য নতুন করে আয়ুষ্মান ভারতের দোরগোড়ায় দাঁড়াতে হবে?