ক্ষমতা দখলের পরই গরু পাচার ইস্যুতে অ্যাকশন মোডে BJP, জারি একাধিক নির্দেশিকা
গত ১৫ বছরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সেই তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে …
গত ১৫ বছরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে বারবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সেই তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে গরু পাচার মামলা (Cow Smuggling Case)। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে এই অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চলেছে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যে রাজ্য রাজনীতি বারবার উত্তপ্ত হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর নতুন সরকার হিসেবে বিজেপি প্রশাসনিক স্তরে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। গরু পাচার রুখতে একাধিক কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যেই জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সরকারের স্পষ্ট বার্তা—বেআইনি গরু পাচার ও অবৈধ গরু হাট কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যেসব বেআইনি গরু হাট গড়ে উঠেছে, সেগুলির উপর কড়া নজরদারি চালাতে হবে। কোনও অবস্থাতেই অবৈধভাবে পরিচালিত হাট চালু রাখা যাবে না। পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনের তরফে আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে যাতে গরু পাচারের কোনও রুট বা নেটওয়ার্ক সক্রিয় না থাকতে পারে।
তবে একইসঙ্গে সরকারের নির্দেশে মানবিক দিকটিও গুরুত্ব পেয়েছে। স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এই অভিযান চালাতে গিয়ে যাতে সাধারণ মানুষ বা বৈধ ব্যবসায়ীরা কোনও সমস্যার সম্মুখীন না হন, সে বিষয়টিও প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে অযথা হয়রানি বা বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়।
রাজ্য পুলিশের শীর্ষ মহল ইতিমধ্যেই এই নির্দেশ জেলা পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠিয়েছে। প্রত্যেক জেলায় বিশেষ টিম গঠন করে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী থানাগুলিকে আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।