‘সকলের মুখ্যমন্ত্রী’র মুখে শুধুই রাজধর্ম পালনের কথা
এই সময়: মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই ‘রাজধর্ম’ পালনের বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। জানিয়ে দিলেন, তিনি সকলের মুখ্যমন্ত্রী। আর ‘সকলের মুখ্যমন্ত্রী’র লক্ষ্য স্থির— বাংলার নবনির্মাণ করা।
বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দুর মুখে বারবার শোনা যেত একটাই হুঁশিয়ারি, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাক্তন করেই ছাড়ব।’ কথা রেখেছেন তিনি। সত্যিই প্রাক্তন হয়েছেন মমতা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে এখন শুভেন্দু নিজেই। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার নেওয়ার পরে শুভেন্দু বোঝালেন, অনেক হয়েছে। রাজনৈতিক আকচাআকচি আর নয়। তাঁর স্থির নজর এখন রাজধর্ম পালনে। এ দিন ব্রিগেডে শপথ নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী চলে যান জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম সরকারি কর্মসূচি। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে মালা দেওয়ার পরে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রী। আমি এখন সকলের। বিতর্কিত কথা বলব না। আমি শুধু বলব, যাঁরা এখনও সমালোচনা করছেন, তাঁদের চৈতন্যের উদয় হোক।’
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছতেই অত্যুৎসাহী কিছু বিজেপি কর্মী ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলেন। শুভেন্দু তাঁদের নিষেধ করেন। মুহূর্তে স্লোগান বদলে যায়। আওয়াজ ওঠে, ‘কবিগুরু লহ প্রণাম।’
মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসে একটা দিনও সময় নষ্ট করতে চান না শুভেন্দু। তাঁর সাফ কথা, ‘বাংলার অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। শিক্ষা হারিয়ে গিয়েছে। সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।’ মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, ‘আমরা বাংলার নবনির্মাণ করব। অনেক দায়িত্ব এখন।’ ফলে এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের সঙ্গে রাজনৈতিক তরজার ফুরসত নেই শুভেন্দুর হাতে। বিরোধীদের সেই বার্তা দিতে এ দিন তিনি বলেন, ‘এখন রাজনৈতিক কচকচানি এবং একে অন্যের সমালোচনা করার সময় নয়। যাঁরা করতে চাইছেন, করুন। আমরা এগিয়ে যাব— চরৈবেতি, চরৈবেতি, চরৈবেতি।’ অর্থাৎ, সামনের দিকে এগিয়ে চলা— বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর মন্ত্রগুপ্তি। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নাম অমিত শাহ ঘোষণা করার পরেই শুভেন্দু বার্তা দিয়েছিলেন, ‘কথা কম, কাজ বেশি।’ এ দিন তাঁর সেই মনোভাব আরও জোরালো করতেই শুভেন্দু বিরোধীদের সমালোচনা করে সময় ব্যয় করতে চাননি বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এ বারের বিধানসভা ভোটে বিজেপির বিরুদ্ধে সব থেকে বড় অভিযোগ ছিল, তারা বাঙালি বিদ্বেষী। নির্বাচনী সভাগুলি থেকে হামেশাই তৃণমূল নেতাদের বলতে শোনা যেত, বিজেপি এ রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বাংলার কৃষ্টি–সংস্কৃতি বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। ভোটপ্রচারে বিজেপি নেতারাও পাল্টা বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, বিজেপি বাঙালিরই পার্টি। শনিবার বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকে সেই বার্তা আরও একবার দিয়েছেন শুভেন্দু। লালপেড়ে সাদা ধুতি ও গেরুয়া ফতুয়া পরে এ দিন ব্রিগেডে শপথবাক্য পাঠ করেন তিনি। সেখান থেকে সোজা রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে যান জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। শুভেন্দুর কথায়, ‘ধুতি–পাঞ্জাবি পরা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক দলের নাম বিজেপি। তাই বিজেপিকে কারও কাছ থেকে বাঙালিয়ানার সার্টিফিকেট নিতে হবে না।’ শুভেন্দুর সংযোজন, ‘বাংলায় নতুন জাগরণের সুচনা হলো। বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতি কবিগুরুর চেতনা, কবিগুরুর ভাবনায় চলবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে প্রণাম জানিয়ে সরকারি কাজ শুরু করলাম।’