‘গাছ লাগানোর নেশায় ক্লাস কামাই করতাম মাঝেমধ্যে’, বন্ধুর স্মৃতিচারণায় মুখ্যমন্ত্রীর সহপাঠী - 24 Ghanta Bangla News
Home

‘গাছ লাগানোর নেশায় ক্লাস কামাই করতাম মাঝেমধ্যে’, বন্ধুর স্মৃতিচারণায় মুখ্যমন্ত্রীর সহপাঠী

Spread the love

দীপক দাস

(শুভেন্দু অধিকারীর সহপাঠী)

স্কুল জীবন থেকে শুরু করে কলেজ। শুভেন্দু অধিকারী আমার সহপাঠী ছিল। শুভেন্দুর ডাক নাম বুবাই। ছোট থেকে স্বামী বিবেকানন্দের ভক্ত। রামকৃষ্ণ মিশনে ওর নিয়মিত যাতায়াত ছিল। যে কাজটা করবে বলে ঠিক করত, সেটা শেষ না করে থামত না।

তখন ওর কতই বা বয়স হবে। ১৮–১৯। আমরা পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি কলেজে পড়তাম। ও মর্নিং সেকশনে, কমার্সে। আমার ছিল ডে সেকশন, আর্টস। কলেজে ছাত্র পরিষদের নেতা ছিল শুভেন্দু। আমিও ছাত্র পরিষদ করতাম। কলেজের অধ্যক্ষ মনোরঞ্জন বর্মা ছিলেন বামপন্থী। বিভিন্ন ইস্যুতে শুভেন্দুর নেতৃত্বে আমরা সারা দিন, সারা রাত অধ্যক্ষকে ঘেরাও করতাম। তবে থেকেই ওর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের অবাক করত।

বুবাই ও আমাদের বাড়ি এক পাড়াতে। ওর মায়ের সঙ্গে আমার বাবার সম্পর্ক ভাই–বোনের। তাই শুভেন্দুর বাবাকে আমরা পিসেমশাই বলে ডাকি। তবে একসঙ্গে রাজনীতি করার সময়ে তিনিই হয়ে ওঠেন ‘শিশিরদা’। আমি আর শুভেন্দু একসঙ্গে ফাইভ থেকে এইট পর্যন্ত কিশোরনগর শচীন্দ্র শিক্ষাসদনের ছাত্র ছিলাম। একসঙ্গে পড়াশোনা, খেলাধুলো করেছি। একটা ঘটনার কথা বলি। আমরা তখন ক্লাস এইটে পড়ি। গাছ পরিচর্যার নেশা তখন পেয়ে বসেছিল শুভেন্দুকে। সঙ্গে আমাদেরও। ফলে এদিক সেদিক নার্সারি থেকে গাছ আনতে চলে যেতাম। তার জন্য স্কুল কামাই হতো কখনও কখনও।

আমাদের হেড স্যর ছিলেন অমল মিত্র। একবার চেপে ধরলেন শুভেন্দুকে। ও ছিল ক্লাস মনিটর। বড় বড় চুল রাখত। হেড স্যর একদিকে স্কুল কামাই, অন্য দিকে বড় চুল নিয়ে চেপে ধরলেন এক দিন। শুভেন্দুও হারার পাত্র নয়। ওইটুকু বয়সে নিজের সপক্ষে যুক্তি সাজিয়ে তুলে ধরেছিল স্যরের সামনে। বলাই বাহুল্য, তা বিশেষ পছন্দ হয়নি স্যরের। শুভেন্দুই স্কুল ছেড়ে পাশের স্কুলে চলে গিয়েছিল।

শুভেন্দুর বাড়িতেই আমরা আড্ডা দিতাম। এই তো ভোটের আগে ২৮ মার্চ ওর বাড়িতে গিয়ে দেখা করে এসেছিলাম। এত বড় নেতা হওয়ার পরেও ওর ব্যবহারে কখনও কোনও পরিবর্তন দেখিনি। গত ৪ মে ভোটে জেতার পরে মেসেজ করেছি। ও উত্তর দিয়েছে। রাত দেড়টা নাগাদ বাড়িতে এসেছিল। কিন্তু, আর বিরক্ত করিনি। ক্রমাগত ছুটে বেড়াচ্ছে। ওকে নিয়ে আমরা ভীষণ গর্বিত।

আমাদের বন্ধুদের অন্য কেউ হেনস্থা করলে কিংবা হামলার চেষ্টা করলে শুভেন্দু ঢাল হয়ে দাঁড়াত। একটা ঘটনার কথা বলি। শুভেন্দু তৃণমূলে থাকাকালীন আমি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি হয়েছিলাম। সেটা মূলত ওরই উদ্যোগে। আমরা একসঙ্গে তৃণমূল করতাম। পরে ২০২০–তে ও বিজেপি–তে চলে যায়। তখন আমি কাঁথি পুরসভায় চাকরি করছি। কাঁথি পুরসভা তখন তৃণমূলের অধীনে। আমিও তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি–তে যেতে চেয়েছিলাম। শুভেন্দুই মানা করেছিল। বলেছিল, পুরসভা তৃণমূলের। আমার ক্ষতি হবে। তারপর থেকে আর সক্রিয় রাজনীতি করিনি।

কলেজের স্মৃতি

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *