কলকাতায় বন্ধ হল অন্তত ৫০টি ‘মা ক্যান্টিন’, ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা
কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আঁচ এবার এসে পড়ল গরিব মানুষের পাতে৷ শনিবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নেওয়ার কথা। আর তার ঠিক আগেই কলকাতায় বন্ধ হয়ে গেল …
কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আঁচ এবার এসে পড়ল গরিব মানুষের পাতে৷ শনিবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ নেওয়ার কথা। আর তার ঠিক আগেই কলকাতায় বন্ধ হয়ে গেল অন্তত ৫০টি ‘মা ক্যান্টিন’। নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হওয়া ধন্দই এই অচলাবস্থার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর থেকে চাল, ডাল, ডিম সরবরাহ করা হতো এবং নির্দিষ্ট কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রান্না করে শহরের ১৩০টিরও বেশি ক্যান্টিনে তা পৌঁছে দিত। কলকাতা পুরসভা গোটা ব্যবস্থার সমন্বয় করত। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে ব্যাহত হয়েছে কাঁচামাল সরবরাহ। খাবার সরবরাহের দায়িত্বে থাকা এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্তার কথায়, তাঁরা প্রতিদিন প্রায় ৮ হাজার মানুষের জন্য রান্না করতেন, কিন্তু গত কয়েকদিনে কাঁচামাল না আসায় শুক্রবার থেকে রান্না বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
কোথায় কোথায় বন্ধ পরিষেবা?
জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ক্যান্টিন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরের দু’টি ক্যান্টিন, কালীঘাট সেতুর কাছের একটি ক্যান্টিন, ভবানীপুরের পূর্ণ সিনেমা হলের সামনের ক্যান্টিন, প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের লর্ডস মোড়ের ক্যান্টিন৷ কাঁচামাল সরবরাহকারীদের দাবি, সরকারের তরফ থেকে এখনও নতুন কোনো নির্দেশিকা আসেনি। আগামী সোমবার বা মঙ্গলবারের মধ্যে পরিস্থিতির জট খুলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে কোভিড অতিমারির সময় অভাবী মানুষের কথা মাথায় রেখে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্প চালু করেছিলেন [cite: ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শহরের ও অভাবী মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ‘মা ক্যান্টিন’ প্রকল্প চালু হয়েছিল।। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত মাত্র ৫ টাকায় ভাত, ডাল, ডিম ও সবজি পেতেন শ্রমজীবী, রিকশাচালক ও দিনমজুরেরা। প্রথমে ৭টি পুরনিগম ও ৩৪টি পুরসভা দিয়ে শুরু হলেও পরে তা গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এখন নতুন বিজেপি সরকারের আমলে এই বিপুল জনপ্রিয় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ কোন দিকে গড়ায়, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে।