নিলামের আগেই ধাক্কা! বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ ছাড়ল হারবার ডায়মন্ডস
নিলামের ঠিক আগে বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ থেকে সরে দাঁড়াল হারবার ডায়মন্ডস। আর্থিক জটিলতায় চাপে পড়েছে সিএবি।
বিট্টু দত্ত, কলকাতা: আসন্ন বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগ শুরুর আগেই বড় ধাক্কার মুখে পড়ল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল। আগামীকাল, রবিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এই প্রতিযোগিতার নিলাম। তার ঠিক একদিন আগে লিগ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নিল হারবার ডায়মন্ডস। ফলে নতুন মরসুমের পরিকল্পনায় বড়সড় অস্বস্তিতে পড়েছে সিএবি কর্তারা। জানা গিয়েছে, ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা বাবদ সিএবি প্রতি দলের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা করে নেয়।
কিন্তু এ বছর সেই অর্থ জমা দিতে পারছে না হারবার ডায়মন্ডস। এই দলের মালিকানা ছিল জিডি স্পোর্টস সংস্থার হাতে। সম্প্রতি বালি পাচার সংক্রান্ত মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্তের মুখে পড়েছে সংস্থার কর্ণধাররা। সেই কারণেই আর্থিক ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, চলতি মরসুমে বেঙ্গল প্রো টি-টোয়েন্টি লিগে অংশ নেওয়া সম্ভব নয় বলে সিএবি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: জয়ের হ্যাট্রিকের পর রাজস্থানের চ্যালেঞ্জে গুজরাট, নজর শীর্ষে ওঠায়
এই ঘটনায় চাপে পড়েছে সিএবি। কারণ, চলতি বছর এই প্রতিযোগিতাকে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। গত দুই মরসুমে আটটি দল নিয়ে প্রতিযোগিতা হলেও এ বছর নতুন দল হিসেবে পুরুলিয়া নোভাস রয়্যালসকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নিজেও এই লিগকে আরও জনপ্রিয় এবং বাণিজ্যিকভাবে শক্তিশালী করে তোলার পক্ষে জোর দিয়েছিলেন। পরিকল্পনা ছিল নয়টি দল নিয়ে জমজমাট প্রতিযোগিতা করার।
কিন্তু নিলামের ঠিক আগের দিন হারবার ডায়মন্ডস সরে দাঁড়ানোয় সেই পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা লাগল। ক্রিকেট মহলের একাংশের মতে, এই লিগ এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ক্রিকেট সংস্কৃতিতে তেমন বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি। মাঠে দর্শক সমাগমও আশানুরূপ হয় না। স্থানীয় ক্রিকেটারদের সুযোগ তৈরি হলেও জনপ্রিয়তার নিরিখে প্রতিযোগিতাটি এখনও অনেকটাই পিছিয়ে। ফলে নতুন দল যুক্ত করে প্রতিযোগিতাকে আরও আকর্ষণীয় করার যে চেষ্টা চলছিল, তা বড়সড় ধাক্কা খেল হারবার ডায়মন্ডসের সরে দাঁড়ানোর ঘটনায়।
আরও পড়ুন: স্পোর্টিং দিল্লিকে হারিয়ে আইএসএলে মান রক্ষা করল ওড়িশা এফসি
এখন সিএবি-র সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তারা কি আবার আট দলের লিগেই ফিরে যাবে, নাকি শেষ মুহূর্তে নতুন কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজিকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করবে। যদিও সময় অত্যন্ত কম। তাই আপাতত আগের মতো আট দল নিয়েই প্রতিযোগিতা আয়োজনের দিকেই ঝুঁকছে সিএবি। এই বিষয়ে সিএবি সচিব বাবলু কোলের বক্তব্য ” “হারবার ডায়মন্ডস কর্তৃপক্ষ আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, তারা চলতি মরসুমে অংশ নিতে পারবে না। বিষয়টি অবশ্যই দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চাই প্রতিটি দল নিয়ম মেনে প্রতিযোগিতায় অংশ নিক।
তবে কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজির নিজস্ব প্রশাসনিক বা আর্থিক সমস্যার জন্য সিএবি দায়ী নয়। আমরা ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং প্রতিযোগিতা যাতে নির্বিঘ্নে আয়োজন করা যায়, সেই দিকেই নজর দিচ্ছি। প্রয়োজনে আট দল নিয়েই লিগ হবে। আমাদের মূল লক্ষ্য বাংলার ক্রিকেটারদের জন্য বড় মঞ্চ তৈরি করা এবং প্রতিযোগিতার মান ধরে রাখা।” এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রিকেট মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, শুধুমাত্র জাঁকজমক নয়, দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থায়িত্ব ও সুশাসনের দিকেও আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত সিএবি-র। নাহলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে বাংলার এই ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতাকে।