ভারতের গোটা শেয়ার বাজারের থেকেও বিত্তশালী এই মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-কে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তাতে ব্যাপক লাভবান হয়েছে এনভিডিয়া (Nvidia)। এক সময় মূলত গেমিং চিপ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত ছিল এই মার্কিন সংস্থা। এখন এই সংস্থার মার্কেট ক্যাপিটাল ভারতের গোটা শেয়ার বাজারের থেকেও বেশি।
বর্তমানে Nvidia-র বাজার মূলধন বা মার্কেট ক্যাপ প্রায় ৫.০৫ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার। অন্য দিকে ভারতের গোটা শেয়ার বাজারের মূল্য প্রায় ৫ লক্ষ কোটি ডলার। অর্থাৎ এ দেশের সম্পূর্ণ ইক্যুইটি মার্কেটকেও পিছনে ফেলেছে এই মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা।
গত কয়েক বছরে Nvidia-র উত্থান কার্যত নজিরবিহীন। ২০২৩ সালে সংস্থার মার্কেট ক্যাপ ছিল প্রায় ১.০১ লক্ষ কোটি ডলার। মাত্র তিন বছরের কম সময়ে সেই মূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বেড়ে গিয়েছে।
এই সময়ে Nvidia-র শেয়ার দরেরও বিপুল উত্থান হয়েছে। আগে যেখানে এই সংস্থার শেয়ারের দাম ছিল ৫০ ডলারের নীচে, এখন তা বেড়ে হয়েছে ২১১.৫০ ডলার। অর্থাৎ প্রায় ৩২৩ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে এই সংস্থার শেয়ার দরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, AI প্রযুক্তির দ্রুত বৃদ্ধির কারণেই এনভিডিয়া এত দ্রুত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রযুক্তি সংস্থায় পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থা, ক্লাউড পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন দেশ AI মডেল তৈরির জন্য GPU চিপ ব্যবহার করছে। এই ধরনের চিপের বাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে Nvidia।
INVasset PMS-এর বিজ়নেস হেড হর্ষল দাসানি জানিয়েছেন, AI প্রযুক্তির জন্য বর্তমানে GPU সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো হয়ে উঠেছে। আর সেই বাজারের সবচেয়ে বড় নিয়ন্ত্রণ Nvidia-র হাতে। ফলে এই প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি আর্থিক সুবিধা তারাই পাচ্ছে।
AI-র জেরে বিশ্বের আরও একাধিক প্রযুক্তি সংস্থার বাজার মূল্য দ্রুত বেড়েছে। আলফাবেট (Alphabet) এবং অ্যাপল (Apple) সম্প্রতি ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার মূলধনের কাছাকাছি পৌঁছেছে। মাইক্রোসফ্ট (Microsoft)-এর বাজার মূল্য ৩ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি। একই ভাবে অ্যামাজ়ন (Amazon), ব্রডকম (Broadcom), টিএসএমসি (TSMC), মেটা (Meta), টেসলা (Tesla) এবং স্যামসাং (Samsung)-এর মতো সংস্থাগুলির বাজার মূল্যও ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।