মাসুদ আজহারের সঙ্গে নেতাজি-ভগৎ সিংয়ের তুলনা পাকিস্তানের
নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিকের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিতে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া (Masood Azhar)। পাকিস্তান নাজরিয়াতি পার্টির প্রধান শাহীর সিয়ালভি (শাহভীর সিয়ালভি) খোলাখুলি স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতের …
নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিকের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিতে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া (Masood Azhar)। পাকিস্তান নাজরিয়াতি পার্টির প্রধান শাহীর সিয়ালভি (শাহভীর সিয়ালভি) খোলাখুলি স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে রাষ্ট্র সংঘের সন্ত্রাসবাদী তালিকাভুক্ত নেতা হাফিজ সাঈদ ও মাওলানা মাসুদ আজহারসহ অন্যান্যদের রক্ষায়।
তিনি আরও দাবি করেছেন, ‘অপারেশন সিঁদুরে’ নিহত জঙ্গিদের জন্য প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর পূর্ণ সম্মানে সামরিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয়েছে এবং ইউনিফর্ম পরা সেনাসদস্যরা তাদের দেহ বহন করেছে।একটি লস্কর-ই-তৈয়বা-সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সিয়ালভি বলেন, “মুরিদকে ও বাহাওয়ালপুরে ভারতীয় হামলার পর এটাই প্রথমবার যে আমরা হাফিজ সাঈদ ও মাসুদ আজহারের নেতৃত্বে যুদ্ধ করেছি।
সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো এই সন্ত্রাসীদের জন্য পূর্ণ সামরিক সম্মানে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা করেছে। উর্দিধারী সেনারা তাদের দেহ বহন করেছে, যাতে বিশ্ব দেখে যে তারা জঙ্গি নয়, স্বাধীনতা সংগ্রামী।”সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো, তিনি জিহাদ ও এই জঙ্গিদের তুলনা করেছেন বিশ্বের খ্যাতনামা বিপ্লবীদের সঙ্গে। তিনি নেলসন ম্যান্ডেলা, ভগত সিং এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন যে, এঁরা সবাই নিজ নিজ দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন।
এই তুলনায় ভারতীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, “এই স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের প্রতি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার আরেকটি প্রমাণ। রাষ্ট্রসংঘের নিষিদ্ধ জঙ্গিদের সেনাবাহিনী যদি এভাবে সম্মান দেয়, তাহলে পাকিস্তানের ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’-এর দাবি সম্পূর্ণ ফাঁকা।” স্থানীয়ভাবে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষ এই খবরে ক্ষুব্ধ। কলকাতার এক প্রবীণ নাগরিক অমলেন্দু বসু বলেন, “নেতাজির নামে জঙ্গিদের তুলনা করা অত্যন্ত অপমানজনক।
নেতাজি দেশের জন্য লড়াই করেছিলেন, আর এরা নিরীহ মানুষ হত্যা করে। পাকিস্তানের এই মানসিকতা বদলাতে হবে।”অপারেশন সিঁদুরের প্রায় এক বছর পূর্তির আগে এই বক্তব্য এসেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে পহেলগাওয়া জঙ্গি হামলার পর ভারত এই অভিযান চালায়, যাতে পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু হয়।
সিয়ালভি দাবি করেন, ওই অভিযানে নিহতদের জন্য সেনাবাহিনী সরাসরি দায়িত্ব নিয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই স্বীকারোক্তি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনগুলোর গভীর যোগসূত্রের স্পষ্ট ইঙ্গিত। সিয়ালভি নিজে একজন সেনা কর্মকর্তার ছেলে এবং হাফিজ সাঈদের সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন।