ভরাডুবির পর মমতার প্রথম বৈঠকেই গরহাজির ১০ বিধায়ক
কলকাতা: নির্বাচনে ধাক্কার পর সংগঠনকে নতুন করে গুছিয়ে নিতে তৎপর তৃণমূল কংগ্রেস। (TMC MLA)সেই প্রেক্ষাপটে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। কলকাতার কালীঘাটে তাঁর বাসভবনে অনুষ্ঠিত …
কলকাতা: নির্বাচনে ধাক্কার পর সংগঠনকে নতুন করে গুছিয়ে নিতে তৎপর তৃণমূল কংগ্রেস। (TMC MLA)সেই প্রেক্ষাপটে নবনির্বাচিত বিধায়কদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। কলকাতার কালীঘাটে তাঁর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রথম বৈঠকেই ১০ জন বিধায়কের অনুপস্থিতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও সংহতি নিয়ে।
সূত্রের খবর, তৃণমূলের মোট ৮০ জন নবনির্বাচিত বিধায়কের মধ্যে প্রায় ৭০ জন এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বাকি ১০ জন বিধায়ক অনুপস্থিত থাকায় স্বাভাবিকভাবেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। যদিও দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, ব্যক্তিগত বা অনিবার্য কারণেই কয়েকজন উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এই অনুপস্থিতির মধ্যে অন্য কোনও বার্তাও লুকিয়ে থাকতে পারে।
আরও দেখুনঃ তৃণমূলের ভরাডুবিতে এবার ভোলবদল মুখপাত্র ঋজুর
এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলের ভবিষ্যৎ রণকৌশল নির্ধারণ করা। একইসঙ্গে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা কে হবেন, সেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিকভাবে এই পদটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বিরোধী শিবির হিসেবে আগামী দিনে বিধানসভায় দলের ভূমিকা অনেকটাই এই নেতার উপর নির্ভর করবে।
বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলার অভিযোগ উঠছে বলে দাবি তৃণমূলের। এই পরিস্থিতিতে বিধায়কদের এলাকায় গিয়ে কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। দলের সংগঠনকে মজবুত রাখতে এবং কর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে এই নির্দেশ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কদের উদ্দেশে সংহতির বার্তা দিয়েছেন বলেই জানা গেছে। তিনি নাকি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই কঠিন সময়েই দলকে আরও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাজনৈতিক লড়াই গণতান্ত্রিক পথেই চালিয়ে যাওয়ার উপর জোর দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রথম বৈঠকেই ১০ বিধায়কের অনুপস্থিতি বিরোধীদের কটাক্ষের সুযোগ করে দিয়েছে। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন শুরু হয়ে গিয়েছে এবং তারই ইঙ্গিত এই অনুপস্থিতি। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, দল সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।