নজিরবিহীন সৌজন্য! রাতে দখল করে সকালে তৃণমূল কার্যালয় ফেরাল পদ্মশিবির
কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ও পঞ্চায়েত অফিস দখল করার অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। তবে বালুরঘাট থেকে রায়গঞ্জ, মঙ্গলবার …
কলকাতা: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটতেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় ও পঞ্চায়েত অফিস দখল করার অভিযোগ উঠেছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। তবে বালুরঘাট থেকে রায়গঞ্জ, মঙ্গলবার দিনভর দেখা গেল এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সৌজন্যের ছবি। কোথাও বিজেপি নেতৃত্ব নিজেরাই তৃণমূলের হাতে পার্টি অফিস ফিরিয়ে দিলেন, আবার কোথাও ভাঙচুরের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কিনে দিলেন নতুন চেয়ার। (BJP leaders return TMC party offices)
সোমবার রাতে বালুরঘাট পুরসভার ১, ৩ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কার্যালয় ভাঙচুর ও দখলের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের নজরে আসতেই তিনি কড়া নির্দেশ দেন। এরপর মঙ্গলবার বিজেপি টাউন সভাপতি সমীরপ্রসাদ দত্তের নেতৃত্বে ওই অফিসগুলি তৃণমূলকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের অফিসে ভাঙচুর হওয়া চেয়ারের বদলে সমীরবাবু পাঁচটি নতুন চেয়ারও উপহার দেন এবং হাতজোড় করে ক্ষমা চান।
রায়গঞ্জে বিধায়কের কড়া বার্তা
রায়গঞ্জেও দেখা গেল একই ছবি। বন্দর শ্মশান এলাকায় তৃণমূল কার্যালয় থেকে পতাকা খোলার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছান বিজেপি বিধায়ক কৌশিক চৌধুরী। তিনি কর্মীদের কড়া বার্তা দিয়ে ফের তৃণমূলের পতাকা লাগিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। অন্যদিকে, করণদিঘির নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস সৌজন্য দেখাতে পৌঁছে যান সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের বাড়িতে, যেখানে দুজনকে একসঙ্গে চা খেতেও দেখা যায়।
ব্যতিক্রমী আলিপুরদুয়ার
তবে সৌজন্যের আবহেও ব্যতিক্রমী ছবি ধরা পড়েছে আলিপুরদুয়ারে। কালচিনি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস-সহ একাধিক পঞ্চায়েত দফতরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। বিজেপির দাবি, পঞ্চায়েত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল লোপাট রুখতেই এই পদক্ষেপ। জেলা বিজেপি সভাপতি মিঠু দাস অবশ্য জানিয়েছেন, দল এই ধরনের আচরণ বরদাস্ত করবে না এবং প্রয়োজনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।