কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপির মারে আক্রান্ত ডিএসও–র কর্মীরা
এই সময়: রাজ্যে পরিবর্তনের পরে রাস্তার লড়াই এ বার শুরু হয়ে গেল ক্যাম্পাসেও। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ছাত্র সংগঠনের (এবিভিপি) কর্মীদের সঙ্গে এসইউসিআই–র ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের মারপিটে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভাইরাল ভিডিয়ো–তে দেখা গিয়েছে, এবিভিপি–র কর্মী সমর্থকরা তাঁদের হাতে থাকা পতাকার লাঠি দিয়ে ডিএসও–র কর্মীদের মারছেন। তাতে একজন মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন। জখম যুবকের নাম শিবম মণ্ডল। এবিভিপি–র কর্মীদের লাঠির আঘাতে শিবমের মাথা ফেটে যায় বলে অভিযোগ। তিনি কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শিবমের সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রছাত্রী তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন। ডিএসও–র কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অনীক দের মাথায় আঘাত পেয়েছেন। কলকাতা ইউনিভার্সিটির অল ইন্ডিয়া ডিএসও–র প্রেসিডেন্ট শ্রাবন্তী সাঁপুইকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়।
এআইডিএসও–র রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘এবিভিপি–র কিছু বহিরাগত ছাত্র ও সমাজবিরোধীরা হঠাৎ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। আমাদের সংগঠনের ব্যানার খুলতে থাকেন। তাঁদের বাধা দিতে গিয়ে আমাদের কর্মীরা আহত হয়েছেন।’ যদিও এবিভিপির কলকাতা মহানগরের সম্পাদক স্বাধীন হালদার বলেন, ‘আমরা ক্যাম্পাসে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে গিয়েছিলাম। ওদের কয়েকজন আমাদের মারধর করে। আমাদেরও কয়েকজন জখম হয়েছে।’
এদিকে, বিজেপির কাছে ধরাশায়ী তৃণমূল কংগ্রেস। এই ফলাফলে উচ্ছ্বসিত গেরুয়া শিবিরের ছাত্র সংগঠন। বিজেপি জিততে সাংবাদিক বৈঠকে আগামী দিনের রূপরেখা বাতলে দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরের ছাত্র-যুব নেতারা। এবিভিপি-র দক্ষিণবঙ্গ প্রদেশ সম্পাদক নীলকন্ঠ ভট্টাচার্য জানান, ক্যাম্পাস রাজনীতি মুক্ত রাখা হবে। রাজনীতির আখড়া কলেজ ক্যাম্পাসে হবে না। মনীষীদের ছবি থাকবে ক্যাম্পাসে। ইউনিয়ন রুমের মধ্যে বিবেকানন্দ, সরস্বতী ও ভারত মাতার ছবি থাকবে। নেশা মুক্ত ক্যাম্পাস হবে। তবে এবিভিপি নেতাদের সাফ কথা, ক্যাম্পাসগুলিতে বামপন্থীরা চে-লেনিনের যে ছবি লাগান, তা আর ‘বরদাস্ত’ করা হবে না।
এসএফআইয়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শুভজিৎ সরকার বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আমরা শুধু চে বা লেনিনের ছবি নয়, ভগৎ সিং ও ক্ষুদিরাম বসুর ছবিও রাখি। আসলে আমরা ভগৎ সিংয়ের আদর্শে বিশ্বাসী। আর ওরা সাভারকারের আদর্শে অনুপ্রাণিত। তাই তফাত তো থাকবেই।’