‘এখনই আনন্দ প্রকাশ করছি না!’ প্রকাশ্যে এসেই বিস্ফোরক অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়
নন্দীগ্রাম: ভোট গণনার উত্তেজনায় ভরা পরিবেশে বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay)প্রকাশ্যে এসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংযত বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেছেন, “বর্তমান ট্রেন্ড বিজেপির পক্ষে রয়েছে এবং আমরা …
নন্দীগ্রাম: ভোট গণনার উত্তেজনায় ভরা পরিবেশে বিজেপি সাংসদ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhyay)প্রকাশ্যে এসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংযত বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেছেন, “বর্তমান ট্রেন্ড বিজেপির পক্ষে রয়েছে এবং আমরা অবশ্যই এতে খুশি, কিন্তু এখনই আমাদের আনন্দ প্রকাশ করছি না।” সবচেয়ে আগে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে যেন কোনো উত্তেজনা না ছড়ায়।
নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর ৭০০০-র বেশি ভোটের লিডের মাঝে এই মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, গণনা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর। সাংসদ হয়েও তিনি গণনা কেন্দ্রের ভেতরে ঢুকতে পারেননি, অথচ সাংবাদিকদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই কথায় স্পষ্ট হয়েছে যে গণনার প্রক্রিয়া নিয়ে উভয় পক্ষেই সতর্কতা ও অস্বস্তি রয়েছে।
তবে তিনি উত্তেজনা এড়িয়ে শান্তির বার্তা দিয়ে বলেছেন, “প্রথম ও প্রধান কথা হলো দুই দলের মধ্যে যেন কোনো টেনশন না হয়।”নন্দীগ্রামের মাটিতে আজ সকাল থেকেই চাপা উত্তেজনা। শুভেন্দু অধিকারী যেখানে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন, সেখানে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আনন্দের হাওয়া বইলেও অভিজিৎবাবুর এই সংযত বক্তব্য তাদের আরও শৃঙ্খলিত করেছে। অন্যদিকে গণনা কেন্দ্রের বাইরে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে চাপা অসন্তোষ। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন যে প্রশাসনিকভাবে সবকিছু একপেশে হয়ে যাচ্ছে।অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যের তাৎপর্য অনেক।
আরও দেখুনঃ বাংলায় পরিবর্তনের হাওয়া? এগিয়ে থাকার প্রবণতায় ম্যাজিক ফিগার পার বিজেপি-র
তিনি একদিকে বিজেপির ভালো অবস্থানের কথা স্বীকার করেছেন, অন্যদিকে আনন্দ প্রকাশ না করে দায়িত্বশীল আচরণ দেখিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিজেপি চাইছে যে ফলাফল ঘোষণার আগে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। বিশেষ করে নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় যেকোনো উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই তিনি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, মূল বার্তা রেখেছেন শান্তি ও ধৈর্যের।
নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন মিশ্র অনুভূতি। একদিকে যারা শুভেন্দুর সমর্থক, তারা বলছেন এই লিড তাঁদের দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের ফসল। অন্যদিকে তৃণমূল সমর্থকরা এখনও আশা করছেন যে শেষ রাউন্ডে ছবিটা বদলাতে পারে। চায়ের দোকানে বসে এক প্রবীণ বাসিন্দা বললেন, “যে যাই বলুক, মানুষের ভোট তো আর চুরি করা যায় না। তবে গণনা যেন স্বচ্ছ হয়, সেটাই দেখতে চাই। সাংসদদা যেভাবে শান্তির কথা বললেন, সেটা ভালো।”