গেরুয়া ঝড়ে চাপে হাবরার তিনবারের বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয়, উঠল ‘চাল চোর’ স্লোগান
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ শুরু হতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। একসময় যে তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা দল হিসেবে দেখা হতো, …
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ শুরু হতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। একসময় যে তৃণমূল কংগ্রেসকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা দল হিসেবে দেখা হতো, সেই ভিত্তিতেই এখন ধস নামার ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলাতেও ঘাসফুল শিবিরের দুর্বলতা চোখে পড়ছে, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে দলটি শক্ত অবস্থানে ছিল।
এই নির্বাচনে বিশেষ নজর ছিল হাবরা বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে। সন্ধ্যা ৭টার সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং দীর্ঘদিনের বিধায়ক জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এই কেন্দ্র থেকে ৩১ হাজার ৪৬২ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। এই ফলাফল কার্যত হাবরার রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একসময় যে আসনটি তৃণমূলের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে এখন বিরোধী শিবিরের আধিপত্য স্পষ্ট।
পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর গণনাকেন্দ্র থেকে বেরোনোর সময় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই মুহূর্তে বিজেপি সমর্থকদের পক্ষ থেকে কটূক্তি এবং স্লোগান শোনা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, “চাল চোর” বলে স্লোগান দেন কিছু বিজেপি কর্মী ও সমর্থক। পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হাবরার রাজনৈতিক ইতিহাসে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক একটি পরিচিত নাম। ২০১১ সাল থেকে তিনি এই কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সেই বছর তিনি ২৫ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন, যা তাঁর জনপ্রিয়তার একটি বড় প্রমাণ ছিল। ২০১৬ সালের নির্বাচনে তাঁর জয় আরও বড় ব্যবধানে হয়, প্রায় ৪৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেছিলেন।
তবে ২০২১ সালের নির্বাচনে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। সেই সময়ও তিনি জয়ী হন, কিন্তু ব্যবধান অনেকটাই কমে গিয়ে ৪ হাজারের নিচে নেমে আসে। তখন থেকেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয় যে হাবরায় তৃণমূলের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে কমছে। স্থানীয় ইস্যু, সংগঠনের দুর্বলতা এবং ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে।
২০২৬ সালের নির্বাচনে সেই প্রবণতা আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া ট্রেন্ড অনুযায়ী, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পরাজয় শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। হাবরার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে এমন বিপুল ব্যবধানে পরাজয় তৃণমূল শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।