ভবানীপুরে আরও কমল শুভেন্দু-মমতার ব্যাবধান
কলকাতা: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা ঘিরে ক্রমশ উত্তেজনা চরমে উঠছে। (Bhabanipur)পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে …
কলকাতা: ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা ঘিরে ক্রমশ উত্তেজনা চরমে উঠছে। (Bhabanipur)পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে লড়াই এখন হাড্ডাহাড্ডি পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। শুরুতে যে ব্যবধান ছিল বিপুল, তা এখন দ্রুত কমে আসছে ফলে শেষ ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
গণনার একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ১৯,০০০ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। সেই সময় অনেকেই মনে করেছিলেন, এই কেন্দ্রটি সহজেই তৃণমূলের দখলে থাকবে। কিন্তু রাউন্ড যত এগিয়েছে, ততই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। একের পর এক রাউন্ডে শুভেন্দু অধিকারী ব্যবধান কমিয়ে আনতে শুরু করেন, যা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।
আরও দেখুনঃ জঙ্গি-বিরোধী অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করতে বুলেটপ্রুফ ট্রুপ ক্যারিয়ার কিনবে সেনা
নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ১৩ রাউন্ড গণনা শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫,৩৪৯ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। তার আগের রাউন্ড অর্থাৎ ১২ রাউন্ড শেষে এই ব্যবধান ছিল ৭,১৮৪ ভোট। অর্থাৎ মাত্র এক রাউন্ডের মধ্যেই ব্যবধান প্রায় ১,৮০০ ভোট কমে যায়। এই প্রবণতা থেকেই স্পষ্ট, শুভেন্দু অধিকারী ধীরে ধীরে ব্যবধান কমিয়ে আনছেন এবং লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলছেন।
অন্যদিকে, কিছু বেসরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে যে ১৫ বা ১৬ রাউন্ড শেষে ব্যবধান আরও কমে প্রায় ২,৯২৯ ভোটে দাঁড়াতে পারে। যদিও এই তথ্য এখনও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও ট্রেন্ড বলছে লড়াই ক্রমশ সমানে সমান হয়ে উঠছে। ভবানীপুর কেন্দ্রে মোট ২০ রাউন্ড গণনা হওয়ার কথা, ফলে এখনও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাউন্ড বাকি রয়েছে।
এই কেন্দ্রের গুরুত্ব শুধু একটি আসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও এই কেন্দ্রের ফলাফল গভীরভাবে জড়িত। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই নন্দীগ্রামে নিজের শক্তি প্রমাণ করেছেন এবং এবার ভবানীপুরে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন।
গণনার মাঝে কিছু সময়ের জন্য স্থগিতের ঘটনাও এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ এবং পরিচয়পত্র সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে গণনা বন্ধ ছিল প্রায় এক ঘণ্টা। পরে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয় এবং পুনরায় গণনা শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।