পৃথিবী থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে 'বিশাল চোখ', রহস্য উন্মোচনে নাসা - 24 Ghanta Bangla News
Home

পৃথিবী থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ‘বিশাল চোখ’, রহস্য উন্মোচনে নাসা

Spread the love

মহাবিশ্বের গভীর থেকে দেখলে, সাহারা মরুভূমির মাঝখানে এমন একটি আকৃতি দেখা যায় যা বিজ্ঞানীদেরও বিস্মিত করেছে (Eye of the Sahara)। এটি বিশ্বজুড়ে ‘সাহারার চোখ’ বা ‘রিচাট কাঠামো’ নামে …

মহাবিশ্বের গভীর থেকে দেখলে, সাহারা মরুভূমির মাঝখানে এমন একটি আকৃতি দেখা যায় যা বিজ্ঞানীদেরও বিস্মিত করেছে (Eye of the Sahara)। এটি বিশ্বজুড়ে ‘সাহারার চোখ’ বা ‘রিচাট কাঠামো’ নামে পরিচিত। প্রায় ৪০ কিলোমিটার ব্যাস জুড়ে বিস্তৃত এই বিশাল নীল চোখ-সদৃশ কাঠামোটি এতটাই স্বতন্ত্র যে মহাকাশচারীরা কয়েক দশক ধরে এটিকে মহাকাশে একটি নির্দেশক চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। মহাকাশ থেকে দেখলে এটিকে একটি বিশাল মানব চোখের মতো দেখায় এবং এটি আফ্রিকার দেশ মৌরিতানিয়ায় অবস্থিত।

এটি কি উল্কাপিণ্ডের আঘাতে সৃষ্ট কোনো গর্ত?
বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করতেন যে, মরুভূমির এই গঠনটি একটি বিশাল উল্কাপিণ্ডের আঘাতে তৈরি হয়েছে। এর আকৃতি এতটাই সুনির্দিষ্ট যে, এটিকে প্রাকৃতিক বলে বিশ্বাস করা কঠিন বলে মনে হয়। কিন্তু নাসা এবং অন্যান্য ভূতাত্ত্বিকরা এখন এই তত্ত্বটিকে সম্পূর্ণরূপে খণ্ডন করেছেন। গবেষণায় কোনো ধরনের অভিঘাত তরঙ্গ বা বাহ্যিক ধ্বংসাবশেষের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা সাধারণত উল্কাপাতের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

তাহলে পৃথিবীতে এই ‘চোখ’ কীভাবে তৈরি হলো?
বিজ্ঞানীদের মতে, এটি কোনো মহাজাগতিক আক্রমণ নয়, বরং পৃথিবীর অভ্যন্তরের নড়াচড়ার ফলে সৃষ্ট একটি গঠন। এটি দেখতে একটি গম্বুজের মতো। লক্ষ লক্ষ বছর আগে, মাটির নিচ থেকে পাথরের স্তর উপরে উঠে এসে একটি গম্বুজ-সদৃশ কাঠামো তৈরি করেছে। সময়ের সাথে সাথে, বাতাস এবং বৃষ্টি ধীরে ধীরে উপরের শিলাস্তরকে ক্ষয় করতে শুরু করে। নরম শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, অন্যদিকে শক্ত শিলাগুলো অক্ষত থাকে। এই অসম ক্ষয়, অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন হারে ক্ষয় হওয়ার ফলে, একটি বৃত্তাকার বলয় গঠিত হয়। পুরোনো শিলাগুলো কেন্দ্রে এবং নতুন শিলাগুলো বাইরের দিকে অবস্থিত, যা একটি চোখের মতো আকৃতি তৈরি করে।

মহাকাশচারীদের ‘দিকনির্দেশক চিহ্ন’
মহাকাশ থেকে সাহারা মরুভূমিকে বেশ সমতল দেখায়, যার ফলে মহাকাশচারীদের জন্য দিক নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই চোখ-আকৃতির স্থানটি তাদের জন্য একটি দিকনির্দেশক চিহ্ন হিসেবে কাজ করে। নাসার মতে, প্রথমদিকের মহাকাশ অভিযানগুলো থেকেই মহাকাশচারীরা দিক নির্ণয়ের জন্য এটি ব্যবহার করে আসছেন।

সাহারা সমগ্র বিশ্বকে সার সরবরাহ করে। নাসার একটি গবেষণায় আরও একটি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। সাহারা শুধু একটি ঊষর মরুভূমি নয়, বরং এটি বিশ্বের বাস্তুতন্ত্রের একটি অপরিহার্য অংশ। প্রতি বছর এখান থেকে প্রায় ১৮ কোটি টন ধূলিকণা উড়ে যায়। এই ধূলিকণার লক্ষ লক্ষ টন আমাজন বৃষ্টি-অরণ্যে গিয়ে জমা হয় এবং সেখানকার গাছপালাকে ফসফরাসের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

https://www.youtube.com/watch?v=videoseries

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *