আর মাত্র ৯০ দিন! জলসঙ্কটে মোদী সরকারের পা ধরবে পাকিস্তান
নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের জলসংকট চরমে। মাত্র ৯০ দিনের জলসঞ্চয় ক্ষমতা বাকি। (Pakistan)গ্রীষ্মকালীন সংকটের আশঙ্কায় দেশটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স বৈঠক ডেকেছে। ইন্দাস ওয়াটার্স ট্রিটি পুনর্বহালের জন্য পাকিস্তান এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে …
নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের জলসংকট চরমে। মাত্র ৯০ দিনের জলসঞ্চয় ক্ষমতা বাকি। (Pakistan)গ্রীষ্মকালীন সংকটের আশঙ্কায় দেশটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স বৈঠক ডেকেছে। ইন্দাস ওয়াটার্স ট্রিটি পুনর্বহালের জন্য পাকিস্তান এখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে অনুরোধ করছে। কিন্তু ভারত সরকার এক বছর ধরে কোনো ছাড় দিচ্ছে না। ‘ভারত প্রথম’ নীতিতে অনড় অবস্থান নিয়ে মোদী সরকার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষককে কোনো রেহাই নয়।
পাকিস্তানের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে স্বীকার করেছে, দেশটির বড়ো বড়ো জলাধারগুলোতে জলের মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছে। করাচি, লাহোর, মুলতানসহ বিভিন্ন শহরে ইতিমধ্যেই পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। কৃষকরা চিন্তিত। গ্রীষ্মের তীব্র গরমে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় তারা রাস্তায় নামতে শুরু করেছে। পাকিস্তান সরকার তাই জরুরি ভিত্তিতে উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করে বৈঠক ডেকেছে।
আরও দেখুনঃ কেকেআরের বোলিং ঝড়ে হায়দরাবাদ বিধ্বস্ত, ৭ উইকেটে দাপুটে জয়
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে আবেদন জানাচ্ছেন। তাঁরা ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বিশ্বব্যাঙ্ক, রাষ্ট্রসংঘ এবং অন্যান্য দেশের কাছে অনুরোধ করছেন। কিন্তু নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না বদলালে ইন্দাস জলচুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। এক বছর আগে চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত করার পরও ভারতের অবস্থান অটল রয়েছে।ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “পাকিস্তান যতদিন সন্ত্রাসবাদকে মদত দেবে, ততদিন তাদের এই সংকট থেকে বেরোনো কঠিন।
জলও একটি কৌশলগত অস্ত্র। আমরা নিজেদের জলসম্পদের সঠিক ব্যবহার করব।” পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। অনেকে বলছেন, “পাকিস্তান যেভাবে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তার ফল তো ভোগ করবেই।” কলকাতার এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমাদের সেনাবাহিনী আর সরকার যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, এটা ঠিক হয়েছে। কোনো দুর্বলতা দেখালে পাকিস্তান আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইন্দাস ওয়াটার্স ট্রিটি নিয়ে ভারতের এই অনড় মনোভাব পাকিস্তানের অর্থনীতি ও কৃষিকে বড়ো ধাক্কা দিয়েছে। পাকিস্তানের জিডিপির এক বড়ো অংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। জলের অভাবে ফসল উৎপাদন কমলে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যেই দেশটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমেছে, কারণ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে জলের প্রবাহ কম।ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, “ভারত প্রথম” নীতি অনুসরণ করে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হবে। পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসবাদের পথ ছাড়ে এবং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখে, তবেই কেবল চুক্তি নিয়ে আলোচনা সম্ভব। অন্যথায় পাকিস্তানকে নিজেদের সংকট নিজেদেরই মোকাবিলা করতে হবে।