“নির্যাতিতার গর্ভপাতে সময়ের বেড়ি কেন?” কেন্দ্রকে আইন বদলের বার্তা সুপ্রিম কোর্টের
“ওর এখন পড়াশোনা করার বয়স, অথচ আমরা তাকে মা বানাতে চাইছি!” এক ১৫ বছরের ধর্ষিতা কিশোরীর ৩০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থা নিয়ে এমনই আবেগপ্রবণ ও কঠোর পর্যবেক্ষণ জানাল সুপ্রিম কোর্ট। …
“ওর এখন পড়াশোনা করার বয়স, অথচ আমরা তাকে মা বানাতে চাইছি!” এক ১৫ বছরের ধর্ষিতা কিশোরীর ৩০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থা নিয়ে এমনই আবেগপ্রবণ ও কঠোর পর্যবেক্ষণ জানাল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ আদালের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, গর্ভপাতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ওই কিশোরী এবং তার পরিবার। কোনোভাবেই কোনো সার্ভাইভারের ওপর অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভাবস্থা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ধর্ষণের শিকার হওয়া এক নাবালিকাকে মাতৃত্বের পথে ঠেলে দেওয়া মানে তার শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া। আদালত বলে, “এই শিশুটি যে অপমান এবং কষ্টের মধ্য দিয়ে গিয়েছে, তা কল্পনা করুন। ধর্ষণের কারণে তৈরি হওয়া গর্ভাবস্থা বজায় রাখলে তা সারা জীবনের ক্ষত হয়ে দাঁড়াবে।”
আইন সংস্কারের পক্ষে সওয়াল Supreme Court Abortion Rights India
বর্তমান আইন অনুযায়ী ২০ সপ্তাহের পর গর্ভপাতে আইনি জটিলতা রয়েছে। কিন্তু শীর্ষ আদালত মনে করে, ধর্ষণের মতো ঘটনায় সময়ের এই কঠোর বিধিনিষেধ থাকা উচিত নয়। বিচারপতিদের মতে, “আইন হওয়া উচিত সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে এবং পরিবর্তনশীল।” এই বিষয়ে কেন্দ্রকে আইন সংশোধনের কথা বিবেচনা করারও পরামর্শ দিয়েছে আদালত।
চিকিৎসকদের ভূমিকা ও এইমস (AIIMS)-এর মতামত
এইমস-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থায় গর্ভপাত করানো ওই কিশোরীর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং ভ্রূণটি এখন বেঁচে থাকার মতো অবস্থায় রয়েছে। তবে আদালত পুনর্বার স্পষ্ট করেছে যে, চিকিৎসকরা কেবল পরামর্শ দেবেন এবং পরিবারকে ‘ইনফর্মড চয়েস’ বা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে পরিবারের হাতেই। চিকিৎসকদের কাজ হলো তাদের কাউন্সিলিং করা এবং গর্ভাবস্থা শেষ করলে কোনো স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা তৈরি হবে কি না, সেদিকে নজর রাখা।
এর আগে ২৪ এপ্রিল বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়ার বেঞ্চও এই ৩০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থা অবসানের অনুমতি দিয়েছিল।
আরও পড়ুন- ৪জি সিসিটিভি ক্যামেরা সহ অমৃতসরে গ্রেফতার ISI চর সুখবিন্দর