জইশের কমান্ডার আজহারকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যা অজ্ঞাত পরিচয় ব্যাক্তির
বাহাওয়ালপুর: পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের (Jaish commander) একজন প্রভাবশালী কমান্ডার মৌলানা মহম্মদ সলমন আজহার সন্দেহজনকভাবে একটি ‘সড়ক দুর্ঘটনায়’ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুসারে, বাহাওয়ালপুরে অজ্ঞাত …
বাহাওয়ালপুর: পাকিস্তানের নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের (Jaish commander) একজন প্রভাবশালী কমান্ডার মৌলানা মহম্মদ সলমন আজহার সন্দেহজনকভাবে একটি ‘সড়ক দুর্ঘটনায়’ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুসারে, বাহাওয়ালপুরে অজ্ঞাত একটি যানবাহন তাঁকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় জঙ্গি সংগঠনের ঘাঁটি মারকাজ-ই-সুবহান থেকে এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তির মৃত্যু হল।
আজ বৃহস্পতিবার মারকাজ-ই-সুবহানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মৌলানা সলমনকে অজ্ঞাত একটি গাড়ি চাপা দিয়ে চলে যায়। দুর্ঘটনাটিকে অনেকেই ‘সন্দেহজনক’ বলে মনে করছেন। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এখনও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। তবে জঙ্গি সংগঠনের ঘনিষ্ঠ মহলে এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আরও দেখুনঃ ঢালাইয়ের কয়েক ঘণ্টাতেই ধস! ঝাড়গ্রামে প্রশ্নের মুখে ৫০ কোটির ‘ইকো প্যাসেজ’
মৌলানা সলমন জইশ-ই-মোহাম্মদের নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন অপারেশনাল কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন বলে জানা যায়।এটি জইশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান ঘাঁটি মারকাজ-ই-সুবহান থেকে এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় মৃত্যু। এর আগে আরেকজন সদস্যের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। দুটি ঘটনাই ‘দুর্ঘটনা’ বলে বর্ণনা করা হলেও, নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এর পেছনে অন্তর্ঘাত বা অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
বিশেষ করে গত বছর ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর জইশ-ই-মোহাম্মদের একাধিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলাতে সংগঠনটি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে বলে খবর রয়েছে।মৌলানা মহম্মদ সলমনের জানাজা ও দাফনের খবর দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। আজ বিকেল ৪টায় মারকাজ-ই-সুবহানে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানেই তার শেষকৃত্য করা হয়। জইশের ঘনিষ্ঠ মহলের সদস্যরা এতে অংশ নেন।
তবে পাকিস্তান সরকার বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এ ধরনের নীরবতা অনেক সময় জঙ্গি সংগঠনগুলোর প্রতি ‘নরম’ অবস্থানের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।জইশ-ই-মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। পুলওয়ামা হামলা, পাঠানকোট বিমানঘাঁটি হামলাসহ একাধিক বড় ঘটনায় এই সংগঠনের নাম জড়িয়েছে।
মাসুদ আজহারের নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠী পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরকে কেন্দ্র করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। মারকাজ-ই-সুবহানকে তাদের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত বছরের অভিযানের পর সংগঠনটি পুনর্গঠনের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলেও খবর পাওয়া গেছে।