দুই ম্যাচেই খুলে যাবে বিশ্বকাপের দরজা? আশায় ভারতীয় ফুটবল দল !
AFC U-17 Asian Cup-এ মাত্র দুই ম্যাচেই সুযোগ, ভাল ফল করলে FIFA U-17 World Cup 2026-এর টিকিট নিশ্চিত করতে পারে ভারত
ভারতীয় সিনিয়র ফুটবল দলের কাছে FIFA বিশ্বকাপে খেলা এখনও অনেক দূরের স্বপ্ন। কিন্তু দেশের জুনিয়র দল সেই স্বপ্নকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে। ২০২৬ সালেই অনুষ্ঠিত হবে FIFA অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ, আর সেখানে জায়গা করে নেওয়ার বড় সুযোগ এসে গিয়েছে ভারতের সামনে। সেই সুযোগের দরজা খুলে দেবে অনূর্ধ্ব-১৭ AFC এশিয়ান কাপ, যা আগামী ৫ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে।
এই টুর্নামেন্ট থেকেই এশিয়ার মোট ৯টি দল সরাসরি FIFA অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করবে। আয়োজক দেশ কাতার আগেই জায়গা নিশ্চিত করেছে। ফলে বাকি দেশগুলির কাছে এই প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের তরুণ ফুটবলারদের লক্ষ্য এখন একটাই, এশিয়ান কাপ পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছনো।
আরও পড়ুন: টানা ছয়টি উইকেট! জোড়া হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস রচনা করলেন ডেভিস
এবারের প্রতিযোগিতায় প্রথমে ১২টি দলকে চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিল। প্রতিটি গ্রুপে ছিল চারটি করে দল। ভারতের গ্রুপে ছিল উত্তর কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও উজ়বেকিস্তান। কিন্তু হঠাৎ করেই উত্তর কোরিয়া টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়। এর ফলে ভারতের গ্রুপে দলসংখ্যা কমে দাঁড়ায় তিনে। অর্থাৎ, এখন ভারতকে গ্রুপ পর্বে মাত্র দু’টি ম্যাচ খেলতে হবে, একটি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এবং অন্যটি উজ়বেকিস্তানের বিরুদ্ধে।
এই পরিবর্তন ভারতের সম্ভাবনাকে অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে তিনটি কঠিন ম্যাচ খেলতে হত, এখন দু’টি ম্যাচে ভাল ফল করলেই বিশ্বকাপের দরজা খুলে যেতে পারে। যদি ভারত একটি ম্যাচ জেতে এবং অন্য ম্যাচটি ড্র করে, তাহলে তাদের সংগ্রহ হবে চার পয়েন্ট। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন প্রায় নিশ্চিত বলা যায়। কারণ, তিন দলের গ্রুপে চার পয়েন্ট সাধারণত শেষ দুইয়ের মধ্যে থাকার জন্য যথেষ্ট।
আরও পড়ুন: ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হায়দরাবাদ
আবার যদি ভারত একটি ম্যাচ জেতে এবং অন্যটিতে হারে, তাহলেও তিন পয়েন্ট হবে। এই অবস্থাতেও সুযোগ প্রবল থাকবে। তবে তখন গ্রুপের অন্য ম্যাচের ফল, গোল পার্থক্য এবং মুখোমুখি ফলাফল বড় ভূমিকা নেবে। অর্থাৎ, জয় শুধু নয়, কত ব্যবধানে জয় বা হার হচ্ছে সেটাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি হবে যদি ভারত দু’টি ম্যাচই ড্র করে। সে ক্ষেত্রে ভারতের পয়েন্ট হবে দুই। তখন অন্য দুই দলের ম্যাচের ফলের উপর নির্ভর করবে ভারতের ভবিষ্যৎ।
যদি সেই ম্যাচে একটি দল জিতে যায়, তাহলে ভারতের সুযোগ থাকতে পারে। কিন্তু ম্যাচটি ড্র হলে সমীকরণ আরও জটিল হয়ে যাবে। সব মিলিয়ে উত্তর কোরিয়ার সরে দাঁড়ানো ভারতের জন্য বড় সুবিধা এনে দিয়েছে। ম্যাচ কমেছে, চাপ কিছুটা কমেছে এবং সম্ভাবনা বেড়েছে। এখন প্রয়োজন শুধু মাঠে আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলা। ভারতের জুনিয়র দল যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারে, তাহলে ২০২৬ সালে বিশ্বকাপের মঞ্চে তেরঙ্গা উড়তেও দেখা যেতে পারে।