Calcutta High Court on Bike Ban: 'বাইকে করে পালিয়ে যাওয়া সহজ', হাইকোর্টে সওয়াল কমিশনের - Bengali News | Calcutta High Court questions Election Commission on legal basis of bike ban - 24 Ghanta Bangla News
Home

Calcutta High Court on Bike Ban: ‘বাইকে করে পালিয়ে যাওয়া সহজ’, হাইকোর্টে সওয়াল কমিশনের – Bengali News | Calcutta High Court questions Election Commission on legal basis of bike ban

কলকাতা: ভোটদানের ৩ দিন আগে রাস্তায় বাইক চলাচলে বিধিনিষেধ নিয়ে এবার কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক যুক্তি দিল নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার মামলার শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী বলেন, “আমাদের কাছে অনবরত অভিযোগ আসছে যে বাইক চড়ে এসে হুমকি দিয়ে গিয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি সওয়াল করেন, “বাইকে করে পালিয়ে যাওয়া সহজ।” অন্যদিকে, রাজ্যের তরফে এদিন আদালতে বলা হয়, “আইনের কোন ধারায় বাইক নিষিদ্ধ করা হল, জানাতে পারেনি কমিশন।”

বাইক চলাচলে বিধিনিষেধ জারির কারণ নিয়ে এদিন হাইকোর্টে কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী বলেন, “বাইকে করে নাকা তল্লাশির এলাকা এড়িয়ে যাওয়া সহজ।” একইসঙ্গে তাঁর যুক্তি, “যে ব্যক্তি বাইকের পিছনে বসে থাকে, সেই অপরাধ বেশি করে থাকে।” তাঁর সওয়াল, “পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী একযোগে আইন রক্ষায় কাজ করছেন।”

কমিশনের আইনজীবীর সওয়াল শুনে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানতে চান, “আইনের কোন ধারায় আপনারা এই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন?” তারপর বলেন, “বাইক মিছিলের ক্ষেত্রে আপনারা ১১০ ভাগ সঠিক।”

বাইকে বিধিনিষেধে কাদের ছাড়?

এদিন কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী জানান, বাইকে বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে কাদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যাঁরা কাজে যাচ্ছেন, অফিসে যাচ্ছেন, তাঁদের ছাড় দেওয়া হয়েছে।” তখন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও মন্তব্য করেন, “যাঁরা মজদুর, যাঁরা কোচিং সেন্টার চালান, যাঁরা সাধারণ শ্রমিক, তাঁরা ID কার্ড কোথায় পাবেন ? ID কার্ড না দেখালে তো আপনারা ছাড় দেবেন না।”

একইসঙ্গে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “নির্বাচনের দিন এই বিধিনিষেধ আরোপ করলে বোঝা যায়। কিন্তু, এত তাড়াতাড়ি কেন ? আপনার কাছে রাজ্য পুলিশ আছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী আছে। আপনারা তাদের ব্যবহার করুন। কেউ যেন বাইক নিয়ে বুথের কাছে যেতে না পারেন, সেটা দেখুন।” কমিশনের আর এক আইনজীবী ডিএস নাইডু তখন বলেন, “এই রাজ্যে ভোটে হিংসার ইতিহাস আছে। আমরা সব তথ্য খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” একইসঙ্গে নিজের সওয়ালে তিনি বলেন, “অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে অস্বাভাবিক কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি।” কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু আরও বলেন, “রাজ্য সহযোগিতা না করলে আমরা নিয়ম লাগু করতে পারব না। আর এখানে রাজ্য বলছে যে আমরা বেআইনি কাজ করছি !”

বাইকে বিধিনিষেধ নিয়ে আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, “এই বিধিনিষেধ নতুন কিছু নয়। প্রতিবার ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে করা হয়, এবার আরও আগে থেকে করা হচ্ছে।” তখন বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “যান নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধু বাইককেই কেন বাছলেন?” আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, “কমিশন নিজের অভিজ্ঞতা এবং জ্ঞান থেকে এই কাজ করেছে। সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য আমরা এই পদক্ষেপ করেছি।”

কমিশনের পদক্ষেপের বিরোধিতা করে রাজ্যের তরফে বলা হয়, “এই নির্দেশিকা জারি করার ক্ষমতার উৎস কোথায়, সেটা কমিশন জানাতে পারেনি। আইন তৈরির ক্ষমতা কমিশনের নেই। আইনের কোন ধারায় বাইক নিষিদ্ধ করা হল, জানাতে পারেনি কমিশন।” মামলাকারীর আইনজীবী শামীম আহমেদ নিজের সওয়ালে বলেন, “কমিশনের একই ধরনের বিজ্ঞপ্তি মাদ্রাজ ও গুজরাট হাইকোর্ট খারিজ করে দিয়েছিল।” মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। বিচারপতি এখনও কোনও রায় দেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *