বারবার মিসক্যারেজ মানেই কি মাতৃত্বের স্বপ্নে ইতি? জেনে নিন চিকিৎসকরা কী বলছেন – Bengali News | Do repeated miscarriages reduce the chances of getting pregnant
বারবার গর্ভপাতের অভিজ্ঞতা কেবল শারীরিক নয়, একজন নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। এই পরিস্থিতিতে অধিকাংশ নারীই ভবিষ্যতের গর্ভধারণ নিয়ে আশঙ্কায় ভোগেন। তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, বারবার মিসক্যারেজ মানেই মা হওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাওয়া নয়।
আরএমএল হাসপাতালের স্ত্রী-রোগ বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডাঃ সলোনি চাড্ডা জানান, প্রতিটি নারীর শরীর আলাদা, তাই মিসক্যারেজের প্রভাবও সবার ক্ষেত্রে এক নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বারবার মিসক্যারেজ হওয়ার পরেও মহিলারা সফলভাবে গর্ভধারণ করেছেন এবং সুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর মতে, সঠিক সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে মিসক্যারেজের প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করা গেলে এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
মেডিক্যাল সায়েন্সের উন্নতির ফলে এখন এমন অনেক পদ্ধতি রয়েছে যা এই ধরণের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে সাহায্য করে। তাই শুধুমাত্র পুরনো ইতিহাসের ভিত্তিতে মা হওয়ার আশা ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়। সঠিক পথপ্রদর্শন এবং ইতিবাচক মানসিকতা এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় ভূমিকা পালন করে।
বারবার মিসক্যারেজের ঝুঁকি কমাতে সঠিক চিকিৎসা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকদের মতে:
সুষম আহার ও ব্যায়াম: পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে ভেতর থেকে মজবুত করে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা গর্ভাবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তাই মন শান্ত রাখা প্রয়োজন।
বর্জনীয় অভ্যাস: ধূমপান এবং মদ্যপান থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা আবশ্যিক।
নিয়মিত চেকআপ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় টেস্ট এবং ওষুধ নিয়মিত সেবন করা উচিত।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি কোনো মহিলার টানা দুই বা তার বেশি বার মিসক্যারেজ হয়, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সময়মতো পরীক্ষা করালে এর নেপথ্যের কারণগুলো স্পষ্ট হয় এবং পরবর্তী গর্ভাবস্থাকে নিরাপদ করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়। এছাড়া গর্ভাবস্থায় কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে বিন্দুমাত্র অবহেলা করা উচিত নয়।
মনে রাখবেন, চিকিৎসা এবং বিজ্ঞানের সহায়তায় অনেক কঠিন পরিস্থিতি জয় করা সম্ভব। নিয়মিত চেকআপ আর সঠিক জীবনযাত্রা বজায় রাখলে আপনিও সুস্থ মাতৃত্বের স্বাদ পেতে পারেন।