সেদিন খবর পেয়েও যাঁরা গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে এলেন… বিস্ফোরক শ্রীময়ী - 24 Ghanta Bangla News
Home

সেদিন খবর পেয়েও যাঁরা গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে এলেন… বিস্ফোরক শ্রীময়ী

Spread the love

সেদিন খবর পেয়েও যাঁরা গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে এলেন… বিস্ফোরক শ্রীময়ী

অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মৃত্যুর শোক থেকে এখনও যেন বের হতে পারছে না টলিউড। তাঁর সহকর্মীরা এখনও রাহুলের নস্ট্যালজিয়ায় ভাসছেন। আর সঙ্গে একটাই প্রশ্ন কেন সেদিন শুটিংয়ে নিরাপত্তার ছিল না? কীভাবে ঘটল এমন দুর্ঘটনা। ঠিক এরই মাঝে অভিনেত্রী শ্রীময়ী চট্টরাজের এক বিস্ফোরক পোস্ট। যেখানে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিক কয়েকজন অভিনেতার দিকে অভিযোগের আঙুল তুললেন শ্রীময়ী।

কী লিখলেন শ্রীময়ীয?

ফেসবুকে একটি লম্বা পোস্টে শ্রীময়ী লিখলেন, ”ফেসবুক খুললেই প্রচুর ভিডিও,রিলস, অনেকের অনেক বক্তব্য, অনেক নিউজ চ্যানেলের নিউজ সারাদিন সারারাত দেখেই চলেছি, কিন্তু কদিন পর মানুষ আবার নিজের নিজের কাজে ফিরে যাবে, তখন রাহুল অরুণোদয় বন্দোপাধ্যায় নামটা স্মৃতির পাতায়। কিন্তু যে ক্ষতি সারাজীবনের হয়ে থেকে যাবে একজন মায়ের সন্তান হারানোর যন্ত্রণা,একজন ১৩ বছরের বাচ্চা শিশুর বাবা নামক নিরাপদ জায়গাটা হারিয়ে যাওয়া আজীবনের জন্য,আর একজন স্ত্রীর সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুকে অকালে হারিয়ে ফেলা। অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় সারা জীবন আমাদের মধ্যে অমর হয়ে থাকবে। কারণ অভিনেতার মৃত্যু হয় না, তাঁরা তাঁদের অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে আমাদের মধ্যে সারাজীবন বেঁচে থাকে। কিন্তু যে অনুশোচনা সারাজীবন থেকে যাবে মানুষ হিসেবে ,একজন শিল্পী সকালবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে যায়, তাঁর পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব সবাই অপেক্ষা করে থাকে সে দিনের শেষে বাড়ি ফিরবে। শিল্পীদের কাজ মানুষকে মনোরঞ্জন করা, কিন্তু তাদের জন্য এইটুকু সুরক্ষা বা নিরাপত্তা একটা শিল্পীর জন্য থাকবে না?? কি করে থাকবে,যেখানে শিল্পীদের মধ্যেই এত অনিশ্চয়তা,এত কাজ হারিয়ে ফেলার ভয়, সত্যি কথা বলার বিন্দুমাত্র সাহসিকতাটুকু নেই, কিসের এত দ্বিধাবোধ, একটি মানুষ পৃথিবী ছেড়ে অকালে চলে গেল, বড় বড় লোকদের গাফিলতিতে,সেখানে নিজেদের দায় এড়াতে, মৃত মানুষের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে ফেলা খুব সহজ তাই না??”

শ্রীময়ীর কথায়, ”নানারকম অযৌক্তিক যুক্তি খাড়া করে দেওয়া, নানারকম মিথ্যে কথার আশ্রয় নেওয়া,এটা কি একটা শিল্পীদের কাম্য, বা যাঁরা শিল্পী তৈরি করে তাদের কাম্য, আজকে যে সকল শিল্পী বলছেন আমরা প্রত্যক্ষদর্শী বা পরোক্ষদর্শী, তাদের মধ্যে ঈশ্বর না করুক, কারোও একজনের এই অঘটনটা ঘটতো না বা ঘটবে না এরকম কোন গ্যারান্টি আছে! তখনও যদি এই মিথ্যের আশ্রয় নিয়ে সত্যিটাকে চেপে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, সেটা একবার দিনের শেষে ঘুমনোর আগে ভেবে দেখবেন, হয়তো সাময়িক নিজের পিঠ বেঁচে গেল,আমরা সবাই দুটো পয়সার জন্য কাজ করি, নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করার জন্য, এটা তাঁদের পেশা, জানি সব শিল্পীদের মধ্যেই একটা কাজের অনিশ্চয়তা কাজ করে, কিন্তু আমার মনে হয় কাজ, অর্থ এগুলোর চেয়ে বড় হল মানুষের জীবন, মানবিকতার বোধ।। আর একটা কথা তো সত্যি শিল্পীরা শিল্পীদের পাশে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দাঁড়ায় না, তা নাহলে আজকে আমার তো মনে হয় , যাঁরা যাঁরা বলেছেন মাঝ রাস্তায় ফেরার পথে খবর পেয়েছি, তারপরেও তাঁরা কিভাবে গাড়ি নিয়ে নিজেদের গন্তব্যস্থলে চলে এলো, একবারও মনে হল না যে মানুষটি,যে সহকর্মী কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত তাঁদের সাথে মেকআপ রুম ,মেকাপ ভ্যান ,শুটিং সেট শেয়ার করছিল, শুটিং করছিল সে এইভাবে অকালে চলে গেল, সেখানে একবার গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত, এটা কেউ বলে দেবে ,নাকি এটা নিজেদের মানবিকতা, নাকি কারও ভয়ে পিছিয়ে যাব। কিসের এত ভয়,এরা নাকি আবার বড় বড় শিল্পী, বড় বড় ডায়লগ সবাই দিতে পারে, স্ক্রিপ্টেয় মানায়, বাস্তবটা বড্ড কঠিন, এই জন্যেই বলে মানুষ মান আর হুশ হারিয়ে ফেলেছে, বড্ড স্বার্থপর মানুষ জাতটাই। ভালো থাকবেন। দেখবেন আপনার বিপদে যেন কেউ কোনওদিন এইভাবে গা বাঁচিয়ে না চলে আসে। তখন এটাই স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে মানুষও ভাববে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *