ফেলে দেওয়ার আগে দু’বার ভাবুন! কম খরচে পুরনো বালিশ দিয়ে ঘর সাজান এভাবে - 24 Ghanta Bangla News
Home

ফেলে দেওয়ার আগে দু’বার ভাবুন! কম খরচে পুরনো বালিশ দিয়ে ঘর সাজান এভাবে

Spread the love

ফেলে দেওয়ার আগে দু’বার ভাবুন! কম খরচে পুরনো বালিশ দিয়ে ঘর সাজান এভাবে

বিছানায় রাখা বালিশটা কি একদম পাতলা হয়ে গিয়েছে? চ্যাপ্টা আর শক্ত হয়ে যাওয়া সেই বালিশে শুলে এখন আর ঘুম আসে না, উল্টে ঘাড়ব্যথা করে? অগত্যা নতুন বালিশ কিনে পুরনোটাকে বাতিলের খাতায় ফেলে রাখাই দস্তুর। কিন্তু ঘর সাজানোর শৌখিনতায় এই বাতিল জিনিসটিই হতে পারে আপনার তুরুপের তাস। বাজারে হাজার হাজার টাকা খরচ করে যেসব ‘ডিজাইনার’ কুশন বা ঘর সাজানোর সামগ্রী কেনেন, তা অনায়াসেই বানিয়ে নেওয়া যায় বাড়িতে পড়ে থাকা পুরনো বালিশ দিয়ে। এতে পকেটের সাশ্রয় তো হবেই, সঙ্গে আপনার অন্দরমহল পাবে এক আভিজাত্যের ছোঁয়া। কীভাবে? জেনে নিন সহজ উপায়।

জানলার ধারে আরামদায়ক বসার জায়গা

আপনার ঘরের জানলার পাশে যদি চওড়া তাক বা জায়গা থাকে, তবে তাকে বানিয়ে ফেলুন একটি চমৎকার বসার জায়গা বা ‘উইন্ডো সিট’। পুরনো বালিশের তুলোগুলোকে ভালো করে ঝেড়ে নিয়ে রোদে দিন। তারপর সেই তুলো দিয়ে লম্বাটে গদি বানিয়ে জানলার ধারে পেতে দিন। তার ওপর একটি উজ্জ্বল রঙের সুতির চাদর বিছিয়ে দিলে তৈরি হয়ে যাবে আপনার প্রিয় বই পড়ার জায়গা। বৃষ্টির দুপুরে এখানে বসে আড্ডা বা কফি খাওয়ার মজাই আলাদা।

সোফায় নতুনত্বের ছোঁয়া

বসার ঘরের সোফাটা কি খুব সাদামাটা লাগছে? পুরনো বালিশের তুলো বের করে ছোট ছোট চৌকো বা গোল আকৃতির কুশন তৈরি করুন। এরপর সেলাইয়ের দোকানে গিয়ে বা অনলাইনে কিছু সুন্দর কভার কিনে নিন। রঙিন আর ঝকঝকে এই কুশন সোফায় সাজিয়ে রাখলে বসার ঘরের ভোল এক নিমেষেই বদলে যাবে। মনে হবে যেন কোনও নামী ইন্টেরিয়র ডিজাইনার দিয়ে ঘর সাজিয়েছেন!

ঠান্ডা হাওয়া ও ধুলোবালি থেকে মুক্তি

শীতের দিনে দরজার তলা দিয়ে আসা হাড়কাঁপানো ঠান্ডা হাওয়া কিংবা রাস্তা থেকে আসা ধুলো আটকাতে পুরনো বালিশ ম্যাজিকের মতো কাজ করে। বালিশের তুলো লম্বা সাপের মতো করে গোল পাকিয়ে কাপড়ের খোলসে ভরে ‘ডোর ড্রাফট স্টপার’ বানিয়ে নিন। এটি দরজার গোড়ায় রেখে দিলে বাইরের ধুলো বা পোকা ঘরে ঢুকতে পারবে না, আবার এসির হাওয়াও বাইরে বেরোবে না।

যোগব্যায়ামের শক্ত কুশন

যারা বাড়িতে নিয়মিত শরীরচর্চা বা যোগাসন করেন, তাদের জন্য শক্ত কুশন বা ‘বোলস্টার’ খুব দরকারি। বাজার থেকে কিনতে গেলে এর দাম অনেকটাই বেশি। দুটো পুরনো বালিশকে একসাথে জুড়ে শক্ত করে কভার পরিয়ে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে আপনার যোগাসনের সরঞ্জাম। পিঠের ব্যথায় বা শবাসনের সময় এটি ব্যবহারে দারুণ আরাম পাওয়া যায়।

অকেজো জিনিসের পুনর্ব্যবহার 

গবেষণা বলছে, গৃহস্থালির বর্জ্য কমানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হল জিনিসের পুনর্ব্যবহার। বালিশের ভেতরের ফাইবার বা তুলো কখনওই নষ্ট হয় না। বাড়িতে থাকা পুরনো সফট টয় বা ছোটদের খেলনাগুলো অনেক সময় চুপসে যায়। সেই খেলনাগুলোর ভেতরে এই তুলো পুনরায় ভরে দিলে সেগুলো আবার নতুনের মতো হয়ে ওঠে। এটি যেমন পরিবেশবান্ধব, তেমনই সৃজনশীল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *