অন্দরসজ্জায় বদলাচ্ছে মন! সুস্থ থাকতে কীভাবে সাজাবেন ঘর? - 24 Ghanta Bangla News
Home

অন্দরসজ্জায় বদলাচ্ছে মন! সুস্থ থাকতে কীভাবে সাজাবেন ঘর?

অন্দরসজ্জায় বদলাচ্ছে মন! সুস্থ থাকতে কীভাবে সাজাবেন ঘর?

সারাদিন খাটাখাটনির পর যখন বাড়ি ফেরেন, তখন ঘরের পরিবেশটা আপনাকে কতটা আরাম দেয়? অথবা অফিসের কাজের চাপে যখন মাথা ধরে যায়, তখন চারপাশের দেয়ালগুলো কি আপনাকে আরও বেশি দিশেহারা করে তোলে? মনে হয় যে আপনি চার দেওয়ালে বন্দি? এক সময় অন্দরসজ্জা বা ইন্টেরিয়র ডিজাইন মানেই ছিল বাহারি আলো আর দামী আসবাবের আস্ফালন। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই সংজ্ঞা আমূল বদলে গিয়েছে। ঘর এখন আর শুধু সাজানোর জায়গা নয়, বরং আপনার মানসিক প্রশান্তি আর কাজের উদ্যম বাড়ানোর প্রধান হাতিয়ার। বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ-সবার কাছেই এখন অন্দরসজ্জার মূল মন্ত্র হল ‘ওয়েলবিয়িং’ বা সামগ্রিক সুস্থতা।

ইদানীং অন্দরসজ্জার দুনিয়ায় একটা বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের মতো দেশেও এখন বাড়ি বা অফিস সাজানোর ক্ষেত্রে ‘অ্যাস্থেটিকস’ বা বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়েও গুরুত্ব পাচ্ছে সেখানে বসবাসকারী মানুষের অনুভূতি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি ঘর কীভাবে সাজানো হয়েছে, তার ওপর সরাসরি নির্ভর করে মানুষের চিন্তাভাবনা আর কাজ করার ক্ষমতা। তাই কেবল স্টাইল নয়, ডিজাইন এখন ব্যবহৃত হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার এক বিশেষ কৌশল হিসেবে।

নতুন প্রজন্মের ঘরবাড়ি বা অফিসের নকশায় সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে ‘বায়োফিলিক ডিজাইন’-এর ওপর। এই ডিজাইনে চারপাশের কংক্রিটের মাঝেও সুকৌশলে প্রকৃতির ছোঁয়া রাখা থাকে। বারান্দায় গাছের সারি, বড় জানলা দিয়ে আসা প্রচুর প্রাকৃতিক আলো আর ঘরে হাওয়া চলাচলের সঠিক ব্যবস্থা—এগুলো এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ থাকার প্রাথমিক শর্ত। গবেষণা বলছে, দিনের বেলা যারা পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পান, তাঁদের মেজাজ বা ‘মুড’ অনেক ভালো থাকে। শুধু তাই নয়, ঘরের ভেতরে ছোট বাগান বা গাছ থাকলে তা মানসিক চাপ কমাতেও সাহায্য করে।

কথায় বলে, অগোছালো ঘর মানেই অগোছালো মন। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ঘরের আসবাব যদি ঘিঞ্জি হয় বা চারপাশ অগোছালো থাকে, তবে তা চোখে পড়ার আগেই মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একে বলা হয় ‘ভিজ্যুয়াল স্ট্রেস’। আধুনিক ইন্টেরিয়র ডিজাইনে তাই প্রচুর ‘স্টোরেজ’ বা আলমারির ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে যাতে অপ্রয়োজনীয় জিনিস চোখের সামনে না থাকে। যত ফাঁকা আর গোছানো জায়গা হবে, তত বেশি কাজের একাগ্রতা বাড়বে এবং উদ্বেগ কমবে বলে জানাচ্ছেন মনোবিজ্ঞানীরা।

দেয়ালের রঙে এখন মাটির ছোঁয়া বা টেরাকোটা রঙের ব্যবহার বাড়ছে। তামাটে বাদামী বা হালকা হলুদাভ রঙ মনে স্থৈর্য নিয়ে আসে। এর পাশাপাশি বর্তমানের ঘরগুলোতে তৈরি হচ্ছে আলাদা ‘মেডিটেশন কর্নার’ বা একান্তে সময় কাটানোর শৌখিন জায়গা। নিজের শখের কাজ করার জন্য আলাদা একটু নিভৃত কোণ থাকলে তা মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ভীষণ সাহায্য করে।

অন্দরসজ্জা এখন আর কেবল শৌখিনতা নয়। আপনার অন্দরমহল যদি সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়, তবে আপনার জীবনটাও হয়ে উঠবে আরও বেশি ছন্দময়। কারণ, দিনশেষে ঘরে এসে শান্তি পেলে আপনার মনও ভালো থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *