South Dinajpur: ভোট ঘোষণা হতেই চুপিসারে সরকারি ত্রিপল কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? টোটো আটকাতেই সমানে এল সব

কুশমণ্ডি: রবিবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন ঘোষণার পরই রাজ্যজুড়ে লাগু হয়েছে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি। অভিযোগ, নির্বাচনী আচরণবিধি লাগুর পর রবিবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডি ব্লক অফিস থেকে টোটো করে চুপিসারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সরকারি ত্রিপল। টোটোটিতে ১৫টি প্যাকেট ছিল। একটি প্যাকেটে পাঁচটি করে ত্রিপল ছিল। ব্লক অফিস থেকে বেরোনোর পরই কুশমণ্ডি শীতলাতলা এলাকায় বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এরপরই তাঁরা ত্রিপল ভর্তি সেই টোটোটিকে আটকান।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। আসেন বিজেপির জেলা সম্পাদক তাপসচন্দ্র রায়-সহ অন্যরা। এরপর খবর দেওয়া হয় কুশমণ্ডি থানায়। পরে পুলিশ এসে ত্রিপল ভর্তি ওই টোটোটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এনিয়ে কুশমণ্ডি থানায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি। যদিও ওই ঘটনায় পুলিশ বিজেপি নেতৃত্বদের রিসিভ কপি দেয়নি। অভিযোগ পেলে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন জেলাশাসক।
জানা গিয়েছে, টোটো ভর্তি ত্রিপলগুলি কুশমণ্ডি ব্লকের করঞ্জি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রাতের অন্ধকারে টোটো করে ত্রিপল নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে আসতেই বিজেপি নেতৃত্ব তৃণমূলের দিকে অভিযোগের তির তুলেছে। বিজেপির দাবি, এই ত্রিপলগুলি রাতের অন্ধকারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মানে এর পিছনে কোনও দুর্নীতি রয়েছে। কারণ নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে মানেই নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হয়েছে রাজ্যে। এই সময় এমনভাবে কোনও কিছুই কাউকে দেওয়া যায় না।
যদিও বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতারা। তাঁদের দাবি, দু’দিন আগে কুশমণ্ডি ব্লকের করঞ্জি এলাকায় ব্যাপক ঝড় বৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে বহু বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে। সেই সব অসহায় মানুষদের হয়তো এই ত্রিপলগুলি দেওয়ার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে জরুরি জিনিস দেওয়া যায়। বিজেপি যে অভিযোগ করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
অন্যদিকে টোটো চালকের দাবি, এদিন বিকেলবেলায় ওই ত্রিপলগুলি তিনি করঞ্জি প্রধানের নির্দেশে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এর বেশি কিছু জানেন না।