India-US : ভারতের উপর তদন্ত শুরু আমেরিকার, ফের শুল্কবাণ ছুঁড়ে দিতে পারেন ট্রাম্প !

ওয়াশিংটন : ভারতের উপর ফের শুল্কবাণ ছুঁড়ে দিতে পারে আমেরিকা? ট্রাম্প প্রশাসন নাকি নতুন শুল্ক আরোপের পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছে। জানা গিয়েছে, ভারতের ‘অন্যায্য বাণিজ্য নীতি’ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে আমেরিকা। শুধু ভারত নয়, তদন্তের তালিকায় রয়েছে আরও ১৫টি দেশ। মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারায় তদন্ত শুরু করেছে আমেরিকা। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটা সংকট তৈরি হয়েছে। তেল ও গ্যাস সংকট নিয়েও উদ্বেগে রয়েছে নয়া দিল্লি। যদিও, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, যথেষ্ট তেল মজুত করা হচ্ছে। বিকল্প উপায়ে তেল আমদানি করা হচ্ছে। এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। আমেরিকাও রাশিয়ার থেকে তেল আমদানিতে অনুমতি দিয়েছে নয়া দিল্লিকে। ভারত সরকারের প্রশংসাও করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই আবহে ‘অন্যায্য বাণিজ্য নীতি’ নিয়ে তদন্ত নয়াদিল্লি ও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
গত মাসেই ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ‘বেআইনি’বলে বাতিল করে দিয়েছিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু, সর্বোচ্চ আদালতের রায় এড়িয়ে ট্রাম্প দেশগুলির উপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইন নীতির ১২২ ধারায় শুল্ক আরোপ করেন। রাতারাতি সেই শুল্ক বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করে দেওয়া হয়। সেইসময়ই সেকশন ৩০১ ও সেকশন ২৩২-এর মতো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। এবার তা কার্যকর করল আমেরিকা। ভারত-সহ মোট ১৬টি দেশে ৩০১ ধারায় তদন্ত শুরু হয়েছে। ভারত ছাড়া তালিকায় রয়েছে চিন, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো-সহ একাধিক দেশ। চলতি বছর গরমকালেই এই দেশগুলিতে আরও শুল্ক আরোপ করতে পারে আমেরিকা। অবশ্য ‘অন্যায্য বাণিজ্য নীতি’ নিয়ে তদন্তে যদি কোনও দেশ দোষী প্রমাণিত হয়, তবেই শুল্ক আরোপ করা হবে।
তদন্তে কোন কোন বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে আমেরিকা ?
• স্থায়ী বাণিজ্য উদ্বৃত্ত
• সরকারি ভর্তুকি
• ভর্তুকিযুক্ত ঋণ
• পরিবেশের মান
• মুদ্রা অনুশীলন
যদি এই ধরনের বিষয়গুলি মার্কিন শিল্প-বাণিজ্যের ক্ষতি করছে বলে প্রমাণিত হয় তাহলে ট্রাম্প প্রশাসন নির্দিষ্ট দেশের উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে।