মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় কাতারে স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালিসিমা অনিশ্চিত! – Bengali News | Spain argentina finalissima in qatar uncertain amid rising tensions in the middle east
কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার জেরে কাতারে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্পেন ও আর্জেন্টিনার বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালিসিমা ম্যাচ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আগামী ২৭ মার্চ দোহার লুসাইল স্টেডিয়ামে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও কোপা আমেরিকা জয়ী আর্জেন্টিনার মধ্যে এই মহারণ হওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সব ধরনের টুর্নামেন্ট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তরফে ইরানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বিমান হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে খবর। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব এবং কাতারের কিছু অংশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কাতারে একটি শিল্পাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ার পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে গোটা অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনালিসিমা আয়োজন করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। টুর্নামেন্টের আয়োজক সংস্থা উয়েফা এবং কনমেবল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাচ স্থগিতের ঘোষণা না দিলেও, তারা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এই ম্যাচকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। স্পেনের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল এবং আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সমর্থকরা। ইউরো চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে কোপা আমেরিকা জয়ীদের এই দ্বৈরথকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশায় ধাক্কা দিয়েছে।
শুধু কাতারই নয়, গোটা অঞ্চলে ফুটবল সূচিতে প্রভাব পড়েছে। বাহরাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাদের সব ম্যাচ স্থগিত করেছে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনও এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিট, এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র কোয়ার্টার ফাইনাল এবং চ্যালেঞ্জ লিগের ম্যাচ পিছিয়ে দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বড় কোনও ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজন ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন আয়োজকরা। ফলে ফাইনালিসিমা আদৌ নির্ধারিত দিনে হবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির উপরই নির্ভর করছে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের ভবিষ্যৎ। আপাতত নিরাপত্তাই সবার আগে, এই বার্তাই দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।