T20 World Cup: ১৫ মিনিটের ভিডিয়ো সেশনই পাল্টে দিয়েছে অভিষেক-তিলকদের! – Bengali News | The video analyst discloses how 15 minute video session changed team india’s mindset
কলকাতা: চিপকে জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে অবশেষে ছন্দে ফিরল মেন ইন ব্লু। ভারত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ২৫৬ রান তোলে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলগত রান। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ৭৬ রানে হারতে হয়েছিল ভারতকে। সূর্যর দল ঘুরে দাঁড়াল। সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা দেখা গিয়েছে ভারতীয় ব্যাটিং লাইন-আপ। ওপেনিং থেকে ছয় নম্বর পর্যন্ত প্রত্যেক ব্যাটার ১৫০-র বেশি স্ট্রাইক রেটে ২০ রানের বেশি করেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যা প্রথম ঘটনা।
ইনিংসের শুরু থেকেই দুরন্ত ব্যাটিং করেন ওপেনার অভিষেক। ৩০ বলে আগ্রাসী ৫৫ রান করে টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম অর্ধশতরান করেন তিনি। সঞ্জু স্যামসন ১৫ বলে ২৪ করেন। ঈশান কিষানও ২৪ বলে ৩৮ করে যান। হার্দিক পান্ডিয়া ২৩ বলে অপরাজিত ৫০ এবং তিলক বর্মা ১৬ বলে অপরাজিত ৪৪ করেন। তাঁদের সম্মিলিত অবদানেই বিশাল স্কোর গড়ে তোলে ভারত। পঞ্চম উইকেটে তিলক ও হার্দিক মাত্র ৩১ বলে ৮৪ রানের ঝড়ো জুটি গড়েন। যার সুবাদে অনায়াসেই ২৫০ পেরিয়ে যায় ভারত। টুর্নামেন্টে আগের ম্যাচগুলিতে বারবার ধস নামলেও জিম্বাবোয়ে ম্যাচে ভারতের ব্যাটিং চমৎকার পারফর্ম করেছে।
বিশ্বকাপের আগে ভারতের টি-২০ সাফল্যের মূল ভিত্তিই ছিল শক্তিশালী ব্যাটিং। আগের বিশ্বকাপের পর থেকে ১৫ বার ২০০-র বেশি রান করেছে সূর্যর দল। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে আবারও সেই আগ্রাসী পারফরম্যান্স ফিরে পেল ভারত। বেপরোয়া শট নয়, বরং হিসেবি ঝুঁকি নিয়ে আক্রমণ চালায় ব্যাটাররা। ম্যাচের পর অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বড় হারের পর দল কীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, দলের ভিডিয়ো অ্যানালিস্ট একটি বিশেষ প্রেজেন্টেশন তৈরি করেছিলেন, যেখানে গত এক বছরে ব্যাটার ও বোলারদের পারফরম্যান্স তুলে ধরা হয়েছিল।
সূর্যকুমার বলেছেন, “লিগ পর্বে কী করেছি বা আহমেদাবাদের আগের ম্যাচে কী হয়েছে, তা নিয়ে আমরা বেশি ভাবিনি। আমাদের ভিডিয়ো অ্যানালিস্ট গত এক বছরে আমরা কী করেছি, তা নিয়ে একটি স্লাইড তৈরি করেছিলেন। আমরা সেটা দেখে অনেক ইতিবাচক দিক খুঁজে পাই। এখানে এসে ওপেনার থেকে সাত নম্বর পর্যন্ত সবার অবদান দেখতে পেয়ে খুব ভালো লেগেছে।”
তিলক বর্মাও জানান, সেই ভিডিয়ো সেশন দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। স্টার স্পোর্টসকে তিনি বলেন, “ম্যাচের আগে ১৫ মিনিটের একটি টিম ভিডিয়ো সেশন হয়েছিল। যেখানে গত এক বছরে আমরা কী করেছি তা দেখানো হয়। সেই ভিডিয়ো দেখে আমরা দারুণ আত্মবিশ্বাস পাই।”
বড় জয় পেলেও সুপার এইটে ভারতের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচটাই কার্যত কোয়ার্টার ফাইনাল। সেই ম্যাচে জিততে পারলেই সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত হবে ভারতের, আর হারলেই ঘরের মাঠে শেষ হয়ে যাবে অভিযান। নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া মেন ইন ব্লু এখন চাইবে এই ফর্ম ধরে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আরেকটি পূর্ণাঙ্গ পারফরম্যান্স করে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে।