Kalyani Medical Student: ‘আরজি করের মতো যেন চাপা না-পড়ে!’, কল্যাণীর ডাক্তারি-পড়ুয়ার মৃত্যুতে খুনের তত্ত্ব – Bengali News | Medical Student Found Dead in Hostel at Kalyani JNM Medical College; Family Alleges Planned Murder
কল্যাণী: যখন কলেজের অন্য পড়ুয়াদের কানে খবর গেল, ততক্ষণে মগরাহাটের পুলক হালদারের দেহতে পচন ধরেছে। তাঁর হস্টেল রুমের বাইরে থেকে পাওয়া যাচ্ছে দুর্গন্ধ। বন্ধ কাঠের দরজার পিছনে যে তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকবে, তা আশা করতে পারেনি কেউই। কল্যাণী জেএনএম হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র, পুলকের মৃত্য়ু ঘিরেই শুধুই ধোঁয়াশা।
শুক্রবার অর্থাৎ আজ পুলকের দেহ ময়নাতদন্ত করার কথা রয়েছে। ইতিমধ্য়েই আত্মীয়দের সঙ্গে কল্যাণীতে পৌঁছে গিয়েছেন বাবা সুধাংশু হালদার। তারপরেই বড় অভিযোগ তুলে দিল পরিবার-পরিজনরা। পুলকের শরীরে একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, বরং নেপথ্যে খুনের চক্রান্ত থাকতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।
এদিন মৃতের আত্মীয় উত্তম মন্ডল বলেন, “ও খুব ভালো ছেলে। আমাদের প্রত্যেকের ওকে নিয়ে খুব আশা ছিল। কিন্তু মনে হয় ওকে খুন করা হয়েছে।” একই দাবি প্রতিবেশীরও। তাঁরা বলেন, “ছেলেটার মুখে দাগ, পিঠে দাগ। অবশ্যই ওকে খুন করা হয়েছে। আরজি করের মতো এই ঘটনাটা যেন চাপা না-পড়ে যায়। সবটাই চক্রান্ত।”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলকের রুমের দরজার ভেঙে ঢুকে পড়েন সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল কলেজের অন্য পড়ুয়ারা। তখনই তাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিছানায় পড়ে থাকা পুলকের নিথর দেহ। এরপরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার করা হয় ফাইনাল ইয়ারের মেডিক্য়াল ছাত্রের পচা-গলা দেহ। কলেজের অন্য পড়ুয়াদের থেকে জানা যায়, গত ২০ তারিখ অর্থাৎ শুক্রবার হস্টেলের ক্যান্টিনে শেষবার খেতে দেখা গিয়েছিল পুলককে। তারপর থেকেই ঘর-বন্দি ছিল সে।
পরিবারের তরফেও একই কথা জানানো হয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি মায়ের সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা বলেছিলেন পুলক। তারপর কী এমন হল? আচমকাই নিজেকে কেন ঘরবন্দি করে নিলেন তিনি? নাকি ২০ তারিখে কিছু একটা ঘটেছিল, যার ফলাফল বৃহস্পতিবার দেখেছে গোটা কলেজ! একটা রহস্যমৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। হস্টেল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। প্রতিবেশীদের দাবি, “একটা ছেলে পাঁচদিন ধরে খেতে আসছে না, হস্টেল কর্তৃপক্ষ কী করছিল? একবার দেখতে যেতে পারল না।”