Dhupguri: স্ত্রীকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ, গ্রেফতার তৃণমূল নেতা – Bengali News | Dhupguri Trinamool leader arrested for attempting to murder his wife
জলপাইগুড়ি: স্ত্রীকে খুনের চেষ্টা অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা! ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ির ক্রান্তি ব্লকের চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। শাসক দলের প্রভাবশালী নেতার বাড়িতে গৃহবধূর উপর দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এমনকি শ্বাসরোধ করে খুনের চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগও সামনে এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চ্যাংমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন বুথ সভাপতি ও ব্লক কমিটির সদস্য সামিউল হকের ছেলে মোতালেব হোসেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী তাহেরা খাতুন ওরফে সোনালির উপর গত দু’বছর ধরে লাগাতর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। গৃহবধূর অভিযোগ, তাঁর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি প্রায় প্রতিদিনই তাঁকে মারধর করত।
শনিবার গভীর রাতে সেই নির্যাতন চরম আকার নেয়। অভিযোগ, বাথরুম থেকে বেরনোর সময় আচমকাই তাহেরা খাতুনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বামী মোতালেব হোসেন, শ্বশুর সামিউল হক ও শাশুড়ি মর্জিনা বেগম। বেধড়ক মারধরের পর শ্বাসরোধ করে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়। জ্ঞান হারালে তাঁকে বাড়ির বাইরে রাস্তার ধারে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
গ্রামবাসীরা বিষয়টি টের পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। খবর দেওয়া হয় মাল থানার অন্তর্গত ক্রান্তি আউট পোস্টে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় গৃহবধূকে প্রথমে মালবাজার সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়িতে তিন বছরের শিশুসন্তান থাকার কারণে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরদিন জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তাহেরা খাতুনের আরও অভিযোগ, গত এক বছর ধরে তাঁর স্বামীর সঙ্গে অন্য এক মহিলার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে। সেই নারীকে বিয়ে করে বাড়িতে আনার চেষ্টার প্রতিবাদ করায় তার উপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একাধিকবার সালিশি সভা বসানো হলেও অভিযুক্ত শাসক দলের নেতা হওয়ায় কোনও সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। পঞ্চায়েত থেকে প্রশাসন—কেউই কার্যত কোনও পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে বিজেপি নেতা শ্যাম প্রসাদ বলেন, “তৃণমূল নেতাদের চরিত্র এমন হলে রাজ্যে মহিলারা কীভাবে সুরক্ষিত থাকবে?” অন্যদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকে তৃণমূল নেতা আজিজুর রহমান বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বহুদিন আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কেউ যদি আইন ভাঙে, প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। দল এটাকে প্রশ্রয় দেবে না।”