Humayun Kabir: সত্যিই বাংলাদেশের টাকায় বাবরি মসজিদ হচ্ছে? উত্তর দিলেন হুমায়ুন – Bengali News | JUP chief Humayun Kabir slams Suvendu Adhikari for his allegation over Babri Masjib money received from Bangladesh
শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্য নিয়ে কী বললেন হুমায়ুন কবীর? Image Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদের টাকা কোথা থেকে আসছে? ২৪ ঘণ্টা আগেই এই নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার শুভেন্দুর মন্তব্যের জবাব দিলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান। আর সেই উত্তর দিতে গিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতাকে নিশানা করলেন হুমায়ুন। কী বললেন তিনি?
গতকাল শুভেন্দু বলেছিলেন, বাবরি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে সাতদিন বাংলাদেশে ছিলেন হুমায়ুন। একইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, বাবরি মসজিদের জন্য ৫০ শতাংশের বেশি আর্থিক সাহায্য এসেছে বাংলাদেশ থেকে। শুভেন্দু মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে এদিন হুমায়ুন বলেন, “হুমায়ুন কবীর কাঁটাতার সরিয়ে বা অবৈধভাবে বাংলাদেশে যায়নি। গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টেয় ইন্ডিগো ফ্লাইট ধরে ঢাকায় গিয়েছে। ঢাকায় ধানমন্ডিতে আমার ভাগ্নার বাড়িতে গিয়ে উঠি। ২ দিন তাদের বাড়িতে থেকেছি। তারপর কক্সবাজার গিয়েছি। সেখানে হোটেলে তিনদিন ছিলাম। তারপর ট্রেনে ঢাকা ফিরেছি। পরদিন নারাণগঞ্জ গিয়েছি। সেখানে আমার এক আত্মীয় রয়েছে। এরপর কেরানিগঞ্জে জেলে গিয়ে এক আত্মীয়র সঙ্গে দেখা করি। পরদিন ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিতের কাছে গিয়েছি। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছি, বাংলাদেশে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের ধর্ম পালনে কোনও অসুবিধা হয় কি না, জানতে চেয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, কোনও অসুবিধা হয় না।” বাংলাদেশে কোথায় কতদিন ছিলেন, পরপর জানান তিনি।
এরপরই বাবরি মসজিদের জন্য বাংলাদেশ থেকে আর্থিক সাহায্য নিয়ে হুমায়ুন বলেন, “আমি শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্জ করছি, যদি ১০ টাকা হোক কিংবা ১০০ টাকা হোক, বাংলাদেশের জামাত কিংবা কারও কাছ থেকে আমি নিয়ে আসি, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে লাগাক না আমার পিছনে।” ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের লোক তাঁর বাবরি মসজিদের জন্য আর্থিক সাহায্য করেছেন বলে তিনি জানান। বাংলাদেশ-সহ বিদেশের কোথাও থেকে তিনি আর্থিক সাহায্য পাননি বলে জানিয়ে দেন।
বাংলাদেশের জামাতের সঙ্গে তাঁর যোগের অভিযোগ নিয়ে হুমায়ুন বলেন, “উনি এত নির্বোধ যে বলছেন, আমার সঙ্গে নাকি জামাতের যোগ রয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীকে আমি বলব, কেন্দ্রীয় সরকারে কে রয়েছে? আপনার সবচেয়ে কাছের লোক অমিত শাহ রয়েছেন। কেন্দ্রের কাছে সমস্ত এজেন্সি রয়েছে। যিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তিনি দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে বলে দেবেন, আমার সঙ্গে জামাতের যোগ রয়েছে।”
শুভেন্দুর তৃণমূল ছাড়ার কারণ নিয়ে খোঁচা দিয়ে হুমায়ুন বলেন, “উনি ভেবেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর মুখ্যমন্ত্রী হবেন। কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন তাঁর ভাইপোকে নিয়ে এলেন, তখন বুঝতে পারলেন, এখানে থাকলে হবে না। তাই, বিজেপির ছত্রছায়ায় গিয়েছেন।” শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তিনি মানহানির মামলা করবেন কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে ভরতপুরের বিধায়ক বলেন, “এইসব লোকের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে হাইলাইটস করতে চাই না।”
এদিন তৃণমূলকেও নিশানা করেন হুমায়ুন। বলেন, “আমার জামাইকে প্রার্থী করার জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছে তৃণমূল। লালগোলায় প্রার্থী করতে চায়। সেখানকার বর্তমান বিধায়ককে জলঙ্গিতে আনতে চাইছে।” বিধানসভা ভোটে তাঁর দলের ফল নিয়ে হুমায়ুন বলেন, “আমরা ১৮২ আসনে প্রার্থী দেব। ১০০টি আসনে জিতব। আমরা ক্ষমতায় এসে লক্ষ্মীর ভান্ডার ৩ হাজার টাকা করে দেব। প্রচুর কর্মসংস্থান হবে। যুব সাথীর প্রয়োজন হবে না।” আরাবুল ইসলামের সঙ্গেও তাঁর বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে বলে এদিন জানান হুমায়ুন।