কেন সবাই ভার্জিন বউ চায়? প্রশ্ন তুললেন নীনা – Bengali News | Neena Gupta’s Explosive Take On ‘Virgin Bride’ Mindset Sparks Debate
আমরা কি সত্যিই আধুনিক হয়েছি? নাকি শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রগতির বুলি আওড়াই? এই প্রশ্নের মুখে ফেললেন অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা। তাঁর সোজাসাপ্টা দাবি- বিয়ের বাজারে আজও একটাই প্রশ্ন ঘোরে— “মেয়েটা ভার্জিন তো?” শুধু তাই নয়, ঘরে ঘরে পিতৃতন্ত্র আজও দিব্যি বেঁচে আছে বলে মনে করেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে “ভারত বদলায়নি, আমরা শুধু ভাবছি বদলেছে”
কেন হঠাৎ এমন মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নীনা বলেন,সমাজ প্রগতিশীল হলেও ভারত বদলায়নি। ঘরের দরজা বন্ধ হলেই এখনও অনেক জায়গায় মেয়েদের জন্য আলাদা নিয়ম শুরু হয়। ছেলের অতীত নিয়ে প্রশ্ন নেই, কিন্তু মেয়ের ক্ষেত্রে প্রথমেই চরিত্রের সার্টিফিকেট লাগবে!
তাঁর মতে, সমাজে এখনও এমন ধারণা রয়েছে যে বউ মানেই হতে হবে‘ভার্জিন’, ‘অস্পর্শিত’। যেন মেয়েরা মানুষ নয়, কোনও সিল করা প্যাকেট!। পুরুষের অতীত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় না, কিন্তু মেয়ের ক্ষেত্রে প্রথম শর্ত- সে যেন “ভার্জিন” হয়। এই মানসিকতাকেই তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন। তাঁর মতে আমরা যতই আধুনিকতার কথা বলি, মনের ভেতর সেই পুরনো ধারণা রয়ে গিয়েছে।
নিজের পরিবারের ঘটনাও শেয়ার করেছেন নীনা। তিনি বলেছেন যে তাঁর এক আত্মীয় বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে নিজের পছন্দের দেবতার ছবি রাখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই ঘরে কেবল শ্বশুরবাড়ির দেবতার ছবিই থাকবে। আরেক ক্ষেত্রে, এক মেয়েকে নিজের বাবা-মায়ের ছবি শোওয়ার ঘরে রাখতে মানা করা হয়। এই ছোট ছোট ঘটনাই দেখায় বিয়ের পর মেয়ের পরিচয় যেন বদলে যায়। নিজের পরিবার, নিজের বিশ্বাস সবকিছুই যেন গৌণ হয়ে পড়ে।
নীনার বক্তব্যে অনেকে সমর্থন জানিয়েছেন, অনেকে আবার মানতে পারেননি। নীনা গুপ্তা বরাবরই নিজের জীবন নিয়ে খোলামেলা কথা বলতেই ভালোবাসেন। একক মাতৃত্ব, সম্পর্ক, সামাজিক চাপ- সবকিছুর মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজের পথ বেছে নিয়েছেন। তাই তাঁর এই মন্তব্য নিছক বিতর্ক নয়, নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতারই প্রতিচ্ছবি।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ভারতে এখনও বিয়ের বাজারে কনের ‘ভার্জিনিটি ’ নিয়ে চাপা প্রত্যাশা কাজ করে। নানা সমীক্ষাতেও দেখা গিয়েছে, বহু পরিবারে মেয়েদের ওপর নিয়ন্ত্রণ পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি।