India-US Deal: গোল দিতে পারেনি ঢাকা! বাংলাদেশ-আমেরিকার চুক্তির আসল ছবি দেখাল নয়াদিল্লি – Bengali News | India to get same terms as bangladesh on textiles in final us deal piyush goyal says
কেন্দ্রীয় বাণিজ্য়মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলImage Credit: নিজস্ব চিত্র
নয়াদিল্লি: আমেরিকার সঙ্গে ভারতের অন্তর্বর্তী বাণিজ্য়িক সমঝোতা যতটা জয়ের আবহ তৈরি করেছিল, ততটাই উদ্বেগ তৈরি করেছিল এরপরই হওয়া বাংলাদেশ-আমেরিকা বাণিজ্য়িক চুক্তি। আমেরিকার বাজারে ভারতীয় বস্ত্র ও বস্ত্রপণ্য জায়গা পেয়েও যেন মার খেয়ে গেল বলে মনে করেছিলেন একাংশ। কিন্তু এমন দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই বলেই দাবি কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের। তাঁর কথায়, বাংলাদেশের পাওয়া সমঝোতা চুক্তি ও ভারতের পাওয়া চুক্তির মধ্যে বিশেষ কোনও ফারাক নেই। বস্ত্রপণ্য়ের ক্ষেত্রে নয়াদিল্লিকেও ঢাকার মতো ছাড় দেবে ওয়াশিংটন।
সম্প্রতি বাংলাদেশের সঙ্গে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যার জেরে কমেছে বাংলাদেশী পণ্যে চাপানো মার্কিন শুল্কের পরিমাণ। ২০ শতাংশ থেকে হয়েছে ১৯ শতাংশ। এছাড়াও, বাংলাদেশের বেশ কিছু বস্ত্র পণ্যকে একেবারে শুল্কমুক্ত করে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা চাপের। তবে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য়মন্ত্রী দাবি, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে গেলে আমাদের এ দেশের ব্যবসায়ীরাও বস্ত্র পণ্যের ক্ষেত্রে একই রকমের ছাড় পাবেন। তাঁর কথায়, “বাংলাদেশ যা পেয়েছে, চুক্তি চূড়ান্ত হলে ভারতও তাই পাবে।”
তবে এই বস্ত্র পণ্যের ক্ষেত্রে আমেরিকার একটি শর্ত রয়েছে। তা হল, কোন তুলো দিয়ে বস্ত্র বা বস্ত্র পণ্য়টি তৈরি, সেই মর্মে মিলবে শুল্ক-ছাড়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী, তাঁদের দেশের তুলো দিয়ে বস্ত্র বা বস্ত্র পণ্যটি তৈরি হলেই তা আমেরিকার বুক হবে শুল্কমুক্ত। বৃহস্পতিবার এই প্রক্রিয়াকেই আরও সহজ ভাবে ব্যাখ্যা করেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, “যে সকল ভারতীয় সংস্থাগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকে তুলো সংগ্রহ করে পোশাক তৈরি করে, আবার তা আমেরিকার বাজারে রফতানি করবে, তারা এই জিরো ট্য়ারিফের সুবিধা পাবে।” তাঁর সংযোজন, “যেমন বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতে এই শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ঠিক তেমনই তা আরোপ করা হয়েছে ভারতের সঙ্গে হওয়া চুক্তিতেও।”
নয়াদিল্লি দাবি করেছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যিক সমঝোতায় ভারতীয় কৃষকদের ‘স্বার্থরক্ষা’ করা হয়েছে। কিন্তু ভারতে পোশাক তৈরির জন্য মার্কিন তুলোয় নির্ভরতা বৃদ্ধি সেই দাবির যেন একেবারে বিপরীত স্রোতের। অবশ্য, এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “কৃষকদের স্বার্থরক্ষা হয়েছে। কারণ মার্কিন তুলোর ক্ষেত্রে রফতানি ৫০ মিলিয়ন ডলারের মধ্য়ে সীমিত থাকবে। অন্যদিকে ভারতে উৎপাদিত ৫০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অধিক তুলো পাঠানো হবে যুক্তরাষ্ট্রে।”