ক্রিকেটের ‘বিস্ময় বালক’ সচিনকে কীভাবে পটিয়েছিলেন ৫ বছরের বড় অঞ্জলি? – Bengali News | The master blasters greatest partnership how anjali tendulkar first charmed the young cricket prodigy sachin
খেলার দুনিয়ায় সবচেয়ে আলোচিত দিন হতে চলেছে ৩ মার্চ? না, শুধু খেলার নয়, রাজনীতি থেকে অভিনয় জগত, শিল্পী থেকে গায়ক, সাহিত্যিক, সেলিব্রিটি— কেউ বাদ যাবেন না। মুম্বই বছর খানেক আগে দেখেছে আম্বানি পরিবারের বিয়ে। এ বার দেখতে চলেছে সচিন তেন্ডুলকরের ছেলের বিয়ে। ৩ মার্চ অর্জুন তেন্ডুলকর ও সানিয়া চান্দ্রকের বিয়ের অনুষ্ঠান। ছেলের বিয়ের জন্য নিমন্ত্রণ করা শুরু করে দিয়েছেন বাবা সচিন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে বিরোধী দল নেতা রাহুল গান্ধীরা ইতিমধ্যেই নিমন্ত্রিত। তালিকা যে সুদীর্ঘ হবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
ছেলের বিয়ের আবহেই বাবার বিয়ে নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে চর্চা। ১৯৯৫ সালের ২৪ মে বিয়ে করেছিলেন সচিন এবং অঞ্জলি। তার আগে ৫ বছর চুটিয়ে প্রেম করেছেন তাঁরা। সচিন-অঞ্জলির প্রেমের গল্প সিনেমাকে হার মানাবে। কী ভাবে দেখা হয়েছিল দু’জনের? অর্জুনের বিয়ের চর্চার মধ্যেই চলুন বাবা ও মায়ের প্রেমকাহিনি জেনে নেওয়া যাক।
১৯৯০ সালের কথা। মাত্র ১৭ বছর বয়সে দাদরের এক ছেলে পা রেখেছেন ভারতীয় দলে। পাকিস্তান সফরে জায়গা করে নিয়েছেন দলে। আত্মপ্রকাশেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, এ ছেলে অনেক দূর যাবে। মাস কয়েক পরের কথা। মুম্বই বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন নাবালক ছেলেটি। জাতীয় দলের সঙ্গে সফরে যাচ্ছেন তিনি। এমন সময় একটি মেয়ে তাঁর দিকে ছুটে এল। সেই মেয়ে ডাক্তারির ছাত্রী। মা আসছেন ইংল্যান্ড থেকে। মাকে নিতেই মুম্বই বিমানবন্দরে আসা। কিন্তু কোঁকড়া চুলের ছোটখাটো এক ছেলেকে দেখে সব যেন ঘেঁটে গেল। সচিন ততদিনে ভারতীয় ক্রিকেটের বিস্ময়বালক। জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। তাঁর নামও জেনে গিয়েছে অনেকে। কিন্তু মেয়েটি জানতেন না। ক্রিকেট নিয়ে ছিটেফোঁটা আগ্রহ নেই যে! পাশ থেকে কেউ নামটা বলেছিল, সচিন! ওই নাম ধরেই চেঁচাতে চেঁচাতে ছুটেছিলেন মেয়ে।
তারপর?
যে কোনও প্রেমের গল্পে অনেকে অনুঘটক হয়ে যান। ডাক্তারির ছাত্রী সেই মেয়ের বয়স তখন ২২। পরদিন কলেজে গিয়ে শুনলেন যে ছেলেটাকে বিমানবন্দরে দেখেছিলেন, মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে থাকা যে ছেলে তাঁকে পাত্তাও দেননি, সেই ছেলেটি আসলে ভারতীয় ক্রিকেটার। তখন বোধহয় ঘেঁটে গিয়েছিল ওই মেয়ের মনোরাজ্য। কলেজে পড়া একটি ছেলেকে চিনতেন মেয়েটি। যিনি আবার ক্রিকেটও খেলতেন। তাঁকে গিয়েই ধরলেন ডাক্তারির ছাত্রী। বললেন, ‘সচিন নামের ওই বাচ্চা ছেলেটার ফোন নাম্বার চাই। যে ভাবে হোক জোগাড় করে দিতে হবে।’
নাম্বার তো পেলেন। কিন্তু ফোন যে ধরে না সচিন নামের ছেলেটা। এ মেয়েও নাছোড়বান্দা। ফোন করেই যান নিয়ম করে। একদিন ফোনের ওপার থেকে মিহি গলায় শুনতে পেলেন, ‘হ্যালো’! ফোনের এপার থেকে মেয়েটি বলেছিলেন, ‘আমার নাম অঞ্জলি। মুম্বই বিমানবন্দরে তোমাকে দেখেছি। তোমার নাম ধরে ছুটে গিয়েছিলাম। মনে আছে?’ সচিন চমকে দিয়ে বলেছিলেন, ‘মনে আছে।’ অঞ্জলি জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘বলো তো আমি কী রংয়ের টি-শার্ট পরেছিলাম?’ সচিন উত্তর দিয়েছিলেন, ‘অরেঞ্জ কালারের!’
ফোনের ওপারে কতক্ষণ নীরবতা ছিল, সে আর জানা যায়নি…
প্রেমের প্রথম দিনগুলোর কথা অবশ্য অঞ্জলি বলেছেন একসময়। প্রবল জনপ্রিয় সচিনের পক্ষে সর্বসমক্ষে অঞ্জলির সঙ্গে দেখা করা সহজ ছিল না। সিনেমা হলকেই বেছে নিয়েছিলেন প্রেম করার জন্য। দু’জন মিলে দেখতে গিয়েছিলেন রোজা। সচিনকে দেখে প্রথমে কি চিনতে পেরেছিলেন অঞ্জলি? নকল দাড়ি-গোঁফ লাগিয়ে এসেছিলেন সচিন। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। পুরো সিনেমাও কিন্তু দেখতে পাননি দু’জন। মাঝ পথেই বেরিয়ে যেতে হয়েছিল। কে দেখে ফেললে যে সচিন তো বটেই, অঞ্জলির কথাও জেনে যেত লোকে!