Beldanga Case: বেলডাঙা হিংসায় সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা রাজ্যের, NIA তদন্ত বহাল – Bengali News | Beldanga case Beldanga violence: State faces setback in Supreme Court, NIA investigation continues
টায়ার জ্বালিয়ে চলছে পথ অবরোধ (ফাইল ছবি)Image Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: বেলডাঙা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা রাজ্যের। বেলডাঙা হিংসায় তদন্ত করবে NIA। স্পষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ। উল্লেখ্য, এর আগেই মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার অশান্তির প্রেক্ষিতে মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট বলে দিয়েছিল, রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে এই অশান্তির মোকাবিলা করবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয়সরকার যদি মনে করে , তাহলে NIA তদন্ত হতে পারে। এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ এই মামলার নিষ্পত্তি করে দেয়। অর্থাৎ কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তাতে আলাদা করে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করেনি। পাশাপাশি হাইকোর্টেই রাজ্যের মামলাটি পাঠানো হয়েছে। তবে UAPA-এর ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ সঠিক হবে কিনা, সেই গোটা বিষয়টা হাইকোর্ট দেখবে বলে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে।
জানুয়ারি মাসের শুরুর দিকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদ। সূত্রপাত হয় ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিককে খুনের অভিযোগে। অভিযোগ, ওই শ্রমিককে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার সকালে মৃতদেহ জেলায় ফিরতেই উত্তেজনা ছড়ায় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায়। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তায় অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। অবরোধ করা হয় রেলও। শিয়ালদহ-লালগোলা শাখার মহেশপুর সংলগ্ন এলাকায় রেললাইন অবরোধ করা হয়। রেললাইনে বাঁশ ফেলে রাখে বিক্ষোভকারীরা। বাঁশে মৃতদেহের ঝুলন্ত ছবি দেখা যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছলে বচসা বাধে। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়ান স্থানীয় বাসিন্দারা।
খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয় গণমাধ্যমও। সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতি সাংসদ ইউসুফ পাঠান কেন এলাকায় যাননি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে থাকে একাধিকবার। ঘটনার তিন দিন পর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন ইউসুফ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। যাদের মধ্যে একজন আবার মিম নেতা। উল্লেখ্য, বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “শুক্রবার জুম্মাবার…. সংখ্যালঘুদের কাছে একটা সেন্টিমেন্ট রয়েছে। সেখানে শুক্রবার অনেকেই নামাজ পড়তে এসেছে। এখানে কেউ যদি রাজনৈতিক চরিতার্থ পূরণ করার জন্য উস্কে দেয়।”
বেলডাঙার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি আগেই করেছিলেন শুভেন্দু। হাইকোর্টে মামলা গেলে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ বেলডাঙায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেন। NIA তদন্ত নিয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ছিল, NIA তদন্তের যদি প্রয়োজন মনে করে কেন্দ্র, তাহলে সম্পূর্ণরূপে স্বাধীনতা তাদের থাকবে।
এদিন সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করে না। এর ভিত্তিতে শুভেন্দু বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের আবেদন গ্রাহ্য করেনি। মামলা আবার ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি। আমিই পিটিশনার ছিলাম। সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্ব দেয়নি রাজ্যের আবেদনে।”