Kim Jong Un: কোরিয়ান নাটক দেখার শাস্তি! তিন কিশোরীকে প্রকাশ্যে ফাঁসি কিমের দেশে - Bengali News | North Korea 'executes schoolchildren for watching Squid Game - 24 Ghanta Bangla News
Home

Kim Jong Un: কোরিয়ান নাটক দেখার শাস্তি! তিন কিশোরীকে প্রকাশ্যে ফাঁসি কিমের দেশে – Bengali News | North Korea ‘executes schoolchildren for watching Squid Game

Spread the love

কিমের দেশে, আইনকানুন সর্বনেশে। জনপ্রিয় ব্যান্ড BTS-এর গান শোনার ‘অপরাধে’ তিনজন স্কুল পড়ুয়াকে প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝোলানো হল উত্তর কোরিয়ায়। ১৬ থেকে ১৭ বছরের ওই ছাত্রীদের অপরাধ, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা বিদেশি অপসংস্কৃতিতে নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল।

কোরিয়ান নাটক, ‘কে পপ’ ব্যান্ডের গানে বুঁদ নয়া প্রজন্ম। কোরিয়া যেতে চেয়ে গাজিয়াবাদে তিন বোনের একসঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে অভিভাবকদের। উত্তরপ্রদেশ থেকে উত্তর কোরিয়ার দূরত্ব সাড়ে ৪ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। কিন্তু সেখানেও তিন স্কুল ছাত্রীর পরিণতি কার্যত একই। কোরিয়ান ড্রামা, গান শোনার অপরাধে সে দেশে স্কুল পড়ুয়াদের ফাঁসিতে ঝোলানো হচ্ছে। বাকিদের শিক্ষা দিতে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে প্রকাশ্য রাস্তায়, জনসমক্ষে। সম্প্রতি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো মানবাধিকার সংগঠন এমনই গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো তথ্য সামনে এনেছে। রিপোর্টে উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা ২৫ জনেরও বেশি ব্যক্তির সবিস্তার ইন্টারভিউ ছাপা হয়েছে। তাঁদের জবানিতে যা যা উঠে এসেছে, শুনলে চমকে উঠতে হয়।

kim jong un

এমনিতেই উত্তর কোরিয়ার বাসিন্দাদের উপর একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা চাপানো রয়েছে। সে দেশের চুলের স্টাইল থেকে নাগরিকরা কী শুনবে- সেটাও কিম জং উনের ঠিক করে দেয়। প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া হোক বা মার্কিন, ইউরোপীয় সংস্কৃতি। পিয়ং-ইয়ংয়ে বিদেশি গান, সিনেমা, সাহিত্যের ‘নো এন্ট্রি।’ কিন্তু চোরাগোপ্তা পেন ড্রাইভে করে প্রতিবেশী সিওলের জনপ্রিয় স্কুইড গেমের মতো সিরিজ বা বিটিএস-এর গান ব্যাপক জনপ্রিয় উত্তর কোরিয়াতেও। বিশেষত সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে যেখানে চোরাচালান জলভাত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পালিয়ে আসা উত্তর কোরিয়ার নাগরিকরা বলেছেন, সীমান্তবর্তী ইয়াংগ্যাং গ্রামের পড়ুয়াদের প্রকাশ্যে ফাঁসি দিয়েছে কিমের পুলিশ। স্কুল পড়ুয়া, গ্রামবাসী, মেয়েদের-ও নির্বিচারে ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে দেদার। বাড়িতে ঢুকে হঠাৎ তল্লাশি চালাচ্ছে কিমের পুলিশ। ঘরে কোথাও দক্ষিণ কোরিয়ার নাটকের সিডি, গানের ক্যাসেট পেলেই ফাঁসি অবধারিত। কোনও বিচার, আইন, মানবাধিকারের প্রশ্নই নেই। ফাঁসির হাত থেকে রেহাই একমাত্র মোটা ঘুষ দিলে। বাড়িঘর বেচে মা-বাবা ঘুষ দিচ্ছেন সন্তানকে বাঁচাতে।

kim jong un

কোনওমতে সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসা ৩৯ বছরের এক উত্তর কোরীয় নাগরিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কিমের পুলিশের নজরদারির হাত থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় নগদ নারায়ণ। তাতে প্রাণরক্ষা হলেও যেতে হবে কিমের রি-এডুকেশন ক্যাম্পে। যেখানে ‘পপ গান’ বা ‘কোরিয়ান ড্রামা’র অভিজ্ঞতা ভুলিয়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের কিমের জয়গান শোনানো হয়। থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঘুষ দিতে হচ্ছে। তবে কারও পরিবারের সঙ্গে যদি কিমের প্রশাসনের উচ্চপদস্থদের যোগাযোগ থাকে, তারা শাস্তি থেকে রেহাই পায়। ২০১০ থেকে এই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে। চিন সীমান্তের কাছে শিনুইজু গ্রামে এই ফাঁসি দেওয়া হচ্ছে। ১৬-১৭ বছরের স্কুলছাত্রীরাও রেহাই পাচ্ছে না। প্রকাশ্যে তিনজন মেয়েকে ফাঁসি দিয়ে বাকি নাগরিকদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, কেউ যেন কোনও বিদেশি সিরিজ-সিনেমা কিমের দেশে না দেখে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ডেপুটি রিজিওনাল ডিরেক্টর সারাহ ব্রুকস জানিয়েছেন, এইসব শিউরে ওঠার মতো সাক্ষাৎকার শুনলে বোঝা যায়, কিমের দেশে একজন মানুষের পক্ষে নাগরিক অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকা অসম্ভব। কোরিয়ান ড্রামা দেখার অপরাধে শাস্তি সেখানে ফাঁসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *