এ বার ফাঁসতে চলেছে? ম্যাচ বয়কটের পর প্রবল বিপাকে পাকিস্তান! – Bengali News | Pakistan will face another problem after boycotting the india match
কলকাতা : ভারতের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে দুর্ভোগ যেন কাটছে না পাকিস্তানের। প্রথমেই আইসিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিল, তারা পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত ভাল ভাবে নেয়নি। এর ফলে তারা পাকিস্তান সুপার লিগে খেলতে চাওয়া বিদেশী খেলোয়াড়দের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। এ ছাড়াও বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা হতে পারে বাবর আজমদের। এর মধ্যেই আইসিসি জানিয়ে দিল, পাকিস্তান ভারত ম্যাচ না খেললে টিভি সম্প্রচারকারী সংস্থা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। বিশ্বকাপের যাবতীয় ম্যাচ দেখা যাবে জিওহটস্টারে। ভারত ম্য়াচ যদি বয়কট করে পাকিস্তান, তা হলে বিপুল ক্ষতি সম্প্রচারকারী সংস্থার। আর তাই আগাম তোপ দেগে রাখল তারা।
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলা ভারত বনাম পাকিস্তান মেগা ম্যাচ না-খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তা জানানো হয়েছে পিসিবিকে। যদিও আইসিসির কাছে এই সিদ্ধান্তের কারণ লিখিতভাবে জানায়নি তারা। ভারত বনাম পাক ম্যাচ যে কোনও টুর্নামেন্টেই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। সেখানে কোন এক পক্ষের ম্যাচ না খেলার অর্থ, টিভি সম্প্রচার থেকে বিজ্ঞাপন, সব দিক থেকেই বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে আইসিসি।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এই ম্যাচ বয়কট করলে পাকিস্তানের বার্ষিক আর্থিক বরাদ্দের প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ মার্কিন ডলার আটকে রেখে সেই অর্থ সম্প্রচারকারী সংস্থাকে দিয়ে দিতে পারে আইসিসি। এই সিদ্ধান্ত আরও বিপাকে ফেলবে পাক বোর্ডকে। আইসিসির নিজের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় কয়েক হাজার কোটি টাকা। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বিষয়টি নিয়ে আইনি পরামর্শের নির্দেশ দিয়েছেন। কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এই নকভির হাত থেকেই পুরস্কার নিতে অস্বীকার করে ভারতীয় দল। সেই সময় চরম বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যে সমস্যা আজও রয়ে গিয়েছে। ওই বিতর্কই নাকি বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কটের পিছনে অনুঘটকের কাজ করেছে, এমনটা মনে করছেন কেউ কেউ।
বোর্ড সূত্রের মতে, আইসিসির ডিসপুট রেজোলিউশন কমিটিতে পাকিস্তানের আবেদন করার সুযোগ কম। কারণ এই কমিটি আইসিসির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেয় না। আইসিসি ও সম্প্রচারকারী সংস্থার মধ্যে ৪ বছরের চুক্তি করা হয়েছিল। এর অর্থ , ম্যাচ না খেলা হলে বিষয়টি চুক্তি লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়বে। তখন সেই সংস্থা কোনও আইনি ব্যবস্থা নিলে পাক বোর্ডের বাঁচার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে আশা করা যাচ্ছে, শেষ মুহূর্তে হলেও আরও একবার নিজেদের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করবে পাকিস্তান বোর্ড। না হলে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলিতে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। যা চূড়ান্ত লজ্জাজনক ঘটনা বলে গণ্য হবে ওয়াঘা বর্ডারের ওপারের ক্রিকেট খেলিয়ে দেশের জন্য।