India-EU FTA: একচেটিয়া বাজার শেষ, বাংলাদেশ-পাকিস্তানের দোকান বন্ধ করল নয়াদিল্লি – Bengali News | India–Europe “Mother of All Deals” Leaves Bangladesh and Pakistan Unsettled
শেহবাজ শরিফ, মুহাম্মদ ইউনূস, নরেন্দ্র মোদী (বাঁদিক থেকে)Image Credit: Getty Image
নয়াদিল্লি: সব চুক্তির জননী, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে এই নামেই অভিহিত করেছে গোটা বিশ্ব। তবে এই চুক্তির জেরে কিন্তু বেজায় চাপে পড়েছে দুই পড়শি। একদিকে পাকিস্তান, অন্য়দিকে বাংলাদেশ। ভারতের সঙ্গে পশ্চিমী দুনিয়ার মুক্ত বাণিজ্য়ের পথ খুলে যাওয়ায় চিন্তার আবহ সেখানে। কিন্তু কেন?
পাকিস্তানে অন্যতম সংবাদপত্র ডন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেদেশের এক ট্রেডিং কোম্পানির কর্তা জানিয়েছেন, ‘ভারত এখন একটি অর্থনৈতিক ফ্রন্ট তৈরি করে ফেলেছে।’ তাঁর মতে, ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি তাঁদের দেশের উপর প্রভাব ফেলবে।
গত কয়েক দশক ধরে ইউরোপের বাজারে একটি প্রভাব তৈরি করে রেখেছে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের পণ্য রফতানিকারকরা। পরনের বস্ত্র থেকে নানাবিধ সামগ্রী — সবই যেত পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে। এই বাণিজ্যিক করিডরে পা রাখতে পারত না ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও। কিন্তু এবার সবটাই অতীত। চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। যার জেরে ইউরোপের বাজারে ৯৬ শতাংশ ভারতীয় পণ্য এখন শুল্কমুক্ত। বলা বাহুল্য, পাকিস্তান-বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক সংঘাতে এ যেন ভারতের বড় জয়।
অস্ত যাচ্ছে সূর্য
২০০৪ সাল, স্বাক্ষর হয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন-পাকিস্তান সহযোগিতা চুক্তি। যার আওতায় বাড়ে বিনিয়োগ, বাড়ে বাণিজ্য। ২০১৪ সালে পাকিস্তানকে জিএসপি প্লাসের মর্যাদা দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যার মাধ্যমে ২৭টি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান এবং ৮৫ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্তির সুবিধা পায় পাকিস্তান। ফলত আরও বাড়ে রফতানির পরিমাণ। পাকিস্তানের বিশ্বজুড়ে রফতানি হওয়া পণ্য়ের ২০ শতাংশ পণ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশে রফতানি হতে শুরু করে।
একইভাবে অগ্রাধিকার পায় বাংলাদেশও। ১৯৭৫ সালে অনুন্নয়নশীল দেশ হিসাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অগ্রাধিকার পায় বাংলাদেশ। ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই অগ্রাধিকার বলে ইউরোপের বস্ত্র বাজারে দাঁত ফুটিয়ে রেখেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ভারতের এই দুই পড়শি দিন আপাতত শেষ। পশ্চিমী দুনিয়ার বাজারের দায়িত্ব নিতে চলেছে ভারত।