সন্তানের খারাপ আচরণের জন্য নিজেকে দোষারোপ করছেন? আসল কারণ জানুন – Bengali News | Parenting myths debunked what science really says about adult personality
বছরের পর বছর ধরে বাবা মায়েদের বিশ্বাস শিশুকে যেভাবে বড় করা হবে, বড় হয়ে তার ব্যক্তিত্বও ঠিক সেভাবেই গড়ে উঠবে। সন্তানের রাগ, ভয়, আত্মবিশ্বাসের অভাব বা ব্যর্থতার দায় অনেক সময় বাবা মায়েরাই নিজের কাঁধে তুলে নেন। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, একজন মানুষের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিত্ব গঠনে শুধু প্যারেন্টিং নয় কাজ করে আরও বহু বিষয়।
জেনেটিক্স ও মনোবিজ্ঞানের একাধিক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, একজন মানুষের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিত্ব গঠনে জেনেটিক বা বংশগত বৈশিষ্ট্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যমজ শিশুদের উপর চালানো গবেষণায় বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, আলাদা পরিবার ও আলাদা পরিবেশে বড় হলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের স্বভাব, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন ও আবেগ প্রকাশের মধ্যে স্পষ্ট মিল থাকে। এই ফলাফল ইঙ্গিত দেয়, শুধু প্যারেন্টিং না এক্ষেত্রে জিন বড় ভূমিকা পালন করে।
এছাড়াও গবেষণায় উঠে এসেছে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জিনগত ঝুঁকি, সামাজিক পরিবেশ, বন্ধুবান্ধব, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং জীবনের পরবর্তী অভিজ্ঞতা সব মিলিয়েই মানুষের মানসিক গঠন তৈরি হয়।
অনেকে বিশ্বাস করেন নির্দিষ্ট ধরণের পড়াশোনা, অতিরিক্ত অনুশীলন বা ‘ব্রেন ট্রেনিং’ শিশুর মেধা ও ব্যক্তিত্ব আমূল বদলে দিতে পারে। কিন্তু আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, মেধা ও ব্যক্তিত্বের একটি বড় অংশ জন্মগত। উপযুক্ত পরিবেশ, শিক্ষা শিশুকে গড়ে তুললেও সেটাই ব্যক্তিত্ব গঠনে সর্বেসর্বা নয়।
তবে বিজ্ঞানীরা এটাও স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন, প্যারেন্টিং-এর গুরুত্ব একেবারেই অস্বীকার করা যায় না। স্নেহ, নিরাপত্তা, মানসিক সমর্থন ও সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ শিশুর মানসিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। বাবা মায়ের শিক্ষা শিশুর আত্মবিশ্বাস ও মানসিক স্থিতি গড়ে তুলতে সাহায্য করে, কিন্তু বড় হয়ে যে ব্যক্তিত্ব তৈরি হয় যাতে বাবা মায়ের একার হাত থাকেনা।
গবেষকদের মতে শিশুর ভুল আচরণের জন্য বাবা মায়েরা নিজেদের দায়ী না করে যেন তাদের পাশে থাকেন। সন্তানের পাশে থাকা, তাকে বোঝা এবং তার নিজস্ব সত্ত্বাকে সম্মান করাই ভাল প্যারেন্টিং বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।