চুলের শুষ্ক, পাতলা হওয়ার সমস্যায় নাজেহাল? কয়েকটা টিপস মানলে চুল দেখে চমকে যাবেন! – Bengali News | Peeling skin on the face everyday habits that are secretly damaging your skin
বর্তমান সময়ে চুলের শুষ্কতা, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া খুবই সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, দূষণ, মানসিক চাপ এবং ভুল হেয়ার কেয়ার রুটিন সব মিলিয়ে চুলের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের চুলের যত্নে কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই চুলের সমস্যার সমাধান হবে দ্রুত।
American Academy of Dermatology (AAD) এর তরফে জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত রাসায়নিকযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের গোড়ার প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলেই স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার হালকা, সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ। অনেকেরই প্রতিদিন শ্যাম্পু করার অভ্যাস রয়েছে। প্রতিদিন শ্যাম্পু ব্যবহারে স্ক্যাল্পের ক্ষতি দেখা যায়।
চুলের গোড়া শক্ত রাখতে তেল মালিশের গুরুত্ব অপরিসীম বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। National Institutes of Health (NIH)-এর তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত স্ক্যাল্প ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়, যা চুলের ফলিকলকে পুষ্টি জোগায়। সপ্তাহে অন্তত একদিন নারকেল তেল বা বাদাম তেল দিয়ে হালকা ম্যাসাজ করলে চুল পড়ার প্রবণতা কমতে পারে।
অনেকেই চুল ধোয়ার সময় গরম জল ব্যবহার করেন। কিন্তু British Association of Dermatologists জানাচ্ছে, গরম জল স্ক্যাল্পের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা নষ্ট করে দেয়। এর ফলে শুষ্কতা আরও বাড়ে। তাই চুল ধোয়ার সময় ঈষদ গরম বা ঠান্ডা জল ব্যবহার করাই বেশি উপকারী।
শুষ্কতা কমাতে ঘরোয়া উপাদানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। এক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, অ্যালোভেরা জেলে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান স্ক্যাল্পের জ্বালা ও শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে। একইভাবে, মেথি বীজে থাকা নিকোটিনিক অ্যাসিড ও প্রোটিন চুলের গোড়া মজবুত করতে কার্যকর।
চুল পাতলা হওয়ার অন্যতম কারণ হল স্প্লিট এন্ডস। এক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময় অন্তর চুলের ডগা ছাঁটলে চুলের ভাঙন কমে এবং চুল দেখতে ঘন ও স্বাস্থ্যবান লাগে। এছাড়া ভেজা চুলে জোরে চিরুনি চালানো বা অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং থেকেও দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিয়মিত কিছু সঠিক অভ্যাসই সুস্থ চুলের চাবিকাঠি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে দীর্ঘদিন ধরে যদি কারোর অতিরিক্ত চুল পড়া বা স্ক্যাল্পে চুলকানির সমস্যা থাকে, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।