Anandapur Fire: গলে গিয়েছে চামড়া, দগ্ধ ভূমে পায়ে ঠেকছে হাড়ের টুকরো, পোড়া দেহাংশ হাতড়ে বেড়াচ্ছেন পরিজনরা – Bengali News | The skin has melted, bone fragments are stuck to the scorched ground, and relatives are groping for burnt body parts.
আনন্দপুরের দগ্ধ গোডাউনImage Credit: TV9 Bangla
কলকাতা: প্রায় ৩৩ ঘণ্টা। রবিবার রাত ১টা আগুন লেগেছিল। মঙ্গলবার বেলা তিনটের পরও এখনও মোমো কারখানায় কোথাও কোথাও ধিক্ ধিক্ করে জ্বলছে আগুন। এখনও পর্যন্ত গোডাউনের ভিতর থেকে উদ্ধার হয়েছে তিনটে পোড়া কঙ্কাল-সহ ৮ টা ঝলসে যাওয়া দগ্ধ দেহাংশ! ঘটনার ভয়াবহতা কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা শহরকে।
এখন আনন্দপুরের সেই গোডাউনের বাইরে স্বজনহারাদের কান্না, উৎকন্ঠা, ঝলসে যাওয়ার ছাইয়ের মাঝে নিখোঁজদের খোঁজার আপ্রাণ প্রয়াস চলছে! ভিতরে এখনও অন্ততপক্ষে ২৫ জন আটকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। আবার ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে বেরোচ্ছে কালো ধোঁয়া। ছাই পেরিয়ে স্বজনের খোঁজে এগোচ্ছেন অনেকে। বাইরে পুলিশের ‘ডন্ট ক্রস দ্য লাইনের’ ফিতে। ডেকরেটর্সের কঙ্কালসার গোডাউনের ভিতর ছাই পেরিয়ে এগোতে গিয়ে পায়ে ঠেকছে হাড়ের টুকরো।
ওই গোডাউন যেন এক শ্মশান! ভস্মের মাঝে স্বজনদের খোঁজার আপ্রাণ প্রয়াস। রাতে গোডাউনের ভিতরে যে তাপমাত্র ছিল, তাতে লোহার বিম গলে গিয়েছে, আর মানুষের চামড়া… বলার অপেক্ষা রাখে না। এখনও বাইরে অধীর অপেক্ষায় নিখোঁজ ২৫-এর পরিজনরা।
রবিবার রাত ১ টার পর আগুন লাগে গুদামে। রাতে সেসময়ে গোডাউনের মধ্যে অন্ততপক্ষে ৩০ জন ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েকজন বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন। তাঁদের মুখে উঠে আসে ভয়ঙ্কর বর্ণনা। ওই গোডাউনের দুটো দরজা। তাঁদের কাছে চাবিও ছিল। সামনের দরজা দিয়ে প্রথমে বেরনোর চেষ্টা করেছিলেন শ্রমিকরা। কিন্তু লোহার বিম ভেঙে পড়ে দরজা বন্ধ হয়ে যায়। পিছনের দরজা দিকে এগোতে থাকেন, সেখানে রাখা ছিল গ্যাস সিলিন্ডার! এরপর কয়েকজন ভিতরে একটি কোণার ঘরে ঢুকে পড়েন, সেখান থেকে শেষবারের মতো পরিজনদের ফোন করেছিলেন কেউ কেউ… আগুন ধীরে ধীরে গ্রাস করে সেই ঘরও! আর বেরনো সম্ভব হয়নি তাঁদের। ভিতরে ক’জন ছিলেন, তা এখনও অস্পষ্ট।