নিয়োগ হচ্ছে যথেষ্ট, তবু কর্মীদের মনে চাকরি হারানোর ভয় বাড়ছে : ILO – Bengali News | Record hiring yet rising fear of job loss among employees 2
চাকরির বাজারে নিয়োগ বাড়ছে। আইটি থেকে শুরু করে ফিনান্স, হেলথকেয়ার, রিটেল প্রায় সব সেক্টরেই নতুন কর্মী নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু চাকরি থাকা সত্ত্বেও অনেকেই চাকরি বাঁচানো নিয়ে বেশ চিন্তায় রয়েছেন। প্রশ্ন উঠছে হায়ারিংয়ের মাঝেও চাকরি হারানোর ভয় কেন বাড়ছে?
হায়ারিং বাড়লেও চাকরির ধরণ বদলেছে, বর্তমান সময়ে কন্ট্রাক্ট বেসিসে টেম্পোরারি বা প্রজেক্টভিত্তিক কাজ বেশি হচ্ছে।
ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (ILO)-এর এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, গত কয়েক বছরে স্থায়ী চাকরির তুলনায় চুক্তিভিত্তিক চাকরি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।
কর্পোরেট বিশ্লেষকদের মতে, অনেক সংস্থাই এখন বাজারের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দ্রুত কর্মী নিয়োগ করছে ঠিকই কিন্তু সেই হারেই চলছে ছাঁটাই। বিশ্বব্যাপী কর্মক্ষেত্র নিয়ে কাজ করা সংস্থা গ্যালাপ (Gallup)-এর এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যেসব কর্মীরা চাকরি হারানোর ভয় পান বেশি, তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই মানসিক চাপের সমস্যায় ভুগছেন আবার কারও কাজের প্রতি অনীহা অনেক বেশি।
AI ও অটোমেশনে বহু কাজ সহজ হচ্ছে, কিন্তু একই সঙ্গে কর্মীদের মধ্যে তৈরি করছে ভয়। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (WEF)-এর ‘Future of Jobs’ রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে বহু প্রচলিত কাজের ধরন বদলে যাবে বা সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কাই কর্মীদের মনে চাকরি হারানোর ভয় বাড়াচ্ছে।
একটি বড় সংস্থায় ছাঁটাই হলেই তার প্রভাব পড়ছে অন্য সংস্থার কর্মীদের মনেও। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বারবার লে-অফের খবর পড়লে কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানোর আশঙ্কা, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা,আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে, এমনকি তাঁদের চাকরি নিরাপদ হলেও।
কেরিয়ার কাউন্সেলরদের মতে, আজকের দিনে চাকরির নিরাপত্তা মানে শুধু একটি কোম্পানিতে থাকলেই হবে না, বরং নিজের স্কিল আপডেট করতে থাকতে হবে, একাধিক বিষয়ে দক্ষতা তৈরি করতে হবে এবং বর্তমান পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে।