ঘাড়, পিঠে ব্যথার জন্য মোবাইলকে দোষ দিচ্ছেন? নীরব ক্ষতি করছে বালিশ। – Bengali News | Is your pillow causing neck and back pain without you realising
ঘাড়ে ব্যথা, সকালে উঠে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা কিংবা কাঁধে টান—এই সমস্যাগুলোকে অনেকেই স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যান। আবার কেউ দোষ দেন মোবাইল ব্যবহারকে, কেউ আবার সারাদিন বসে কাজ করাকে। কিন্তু জানেন যে বালিশ মাথায় দিয়ে আপনি শান্তিতে ঘুমোন সেই বালিশই আপনার অশান্তির কারণ হতে পারে। ঘুমের সময় ঘাড় রাখতে হবে সঠিক ভাবে। নয়ত সমস্যায় পড়তে পারেন।
ঘুমের সময় ঘাড়ের অবস্থান কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
ঘুমের সময় আমাদের সার্ভাইকাল স্পাইন বা ঘাড়ের হাড় একটু হেলে থাকে। এই বাঁক ঠিক না থাকলে ঘাড়ের পেশি ও স্নায়ুর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের সময় যদি মাথা খুব বেশি উঁচুতে বা খুব নিচে থাকে, তাহলে সার্ভাইকাল স্পাইনের স্বাভাবিক অ্যালাইনমেন্ট নষ্ট হয়।
চাইরোপ্র্যাকটর (Chiropractor)ডা. পিটার মারটোন এক সাক্ষাৎকারে বলছেন—
“অনেকেই ঘাড়ের ব্যথার জন্য মোবাইল বা ডেস্কে বসে কাজ করাকে দায়ী করেন। কিন্তু বাস্তবে ঘুমের সময় ভুল বালিশে টানা ৬–৮ ঘণ্টা ঘাড়ের স্বাভাবিক বাঁক নষ্ট হলে সার্ভাইকাল স্পাইনে দীর্ঘমেয়াদি চাপ পড়ে। এর ফলেই ধীরে ধীরে ক্রনিক নেক ও শোল্ডার পেইন তৈরি হয়।”
Journal of Physical Therapy Science-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভুল বালিশ ব্যবহারে ঘাড়ের পেশিতে স্টিফনেস ও ক্রনিক নেক পেইনের ঝুঁকি বাড়ে।
একটি অর্থোপেডিক স্টাডি থেকে জানা গিয়েছে ঘুমের সময় মাথা যদি শরীরের তুলনায় বেশি উঁচু থাকে, তাহলে ঘাড়ের পিছনের পেশি সারারাত টানটান অবস্থায় থাকে। এর ফলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই জ্বালাবে ব্যথা।
চিকিৎসকদের মতে, ভুল বালিশে শুলে পড়বেন বেশ কিছু সমস্যায়। মাথার পিছনে বা কপালে ব্যথা, দীর্ঘদিন চললে কাঁধ ও উপরের পিঠে ব্যথা, এমনকি ঘাড় ঘোরাতেও অসুবিধা হতে পারে।
ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে উপসর্গ।
কোন বালিশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে জানেন? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন খুব নরম বালিশ মাথার ওজন নিতে পারে না, অতিরিক্ত উঁচু ফোম বা কটন বালিশ, বহু বছর পুরনো-নষ্ট হয়ে যাওয়া বালিশ ঘাড়ে স্বাভাবিক সাপোর্ট দিতে পারে না।
তাহলে কোন বালিশে শোবেন? অর্থোপেডিক ও ফিজিওথেরাপিস্টরা বলছেন পাশ ফিরে ঘুমালে ঘাড় থেকে কাঁধের দূরত্ব অনুযায়ী বালিশের উচ্চতা হওয়া উচিৎ। চিৎ হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে মাঝারি উচ্চতার বালিশ ব্যবহার করুন। এমন বালিশে ঘুমান যা শুধু মাথাকে নয় ঘাড়ের বাঁকটাকে সাপোর্ট দেয়।