Artificial Intelligence: টাকা ঘুরছে, বাজারে তৈরি হচ্ছে বুদবুদ! ফাটলেই মুহূর্তে সব শেষ? - Bengali News | Artificial Intelligence: Money is Creating Loop, An AI Bubble is in Making just Like The Dot Com Bubble? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Artificial Intelligence: টাকা ঘুরছে, বাজারে তৈরি হচ্ছে বুদবুদ! ফাটলেই মুহূর্তে সব শেষ? – Bengali News | Artificial Intelligence: Money is Creating Loop, An AI Bubble is in Making just Like The Dot Com Bubble?

Spread the love

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মাত্র তিন বছর আগে যা ছিল কল্পবিজ্ঞান। আজ সেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ওয়াল স্ট্রিটের একমাত্র আলোচনার বিষয়, জেনারেটিভ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স। আর সেই জেনারেটিভ এআইকে ঘিরে গড়ে উঠেছে চিপ ও ডেটা সেন্টারের ইকো সিস্টেম। আর এই ইকো সিস্টেমের যে রমরমা, তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকে তো সরাসরি একে তুলনা করছেন ডট.কম বাবলের সঙ্গেও।

কী ঘটছে বাজারে?

আচ্ছা, বিষয়টা একটু সহজ করে যদি বোঝা যায়, এটাকে বলে সার্কুলার ইনভেস্টমেন্ট। মনে করুন কোনও বড় টেক সংস্থা যেমন মাইক্রোসফট বা এনভিডিয়া, নতুন কোনও এআই কোম্পানিতে বিনিয়োগ করল। সাধারণ চোখে দেখলে মনে হবে সেই সংস্থায় বিনিয়োগ করছে এই সংস্থাগুলো। আরও বড় হচ্ছে নতুন সেই টেক কোম্পানি। কিন্তু এই বিনিয়োগের পিছনে থাকে অদ্ভূত শর্ত। হয়ত মাইক্রোসফটের ক্লাউড সার্ভিস বা এনভিডিয়ার থেকে চিপ কিনতেই হবে ওই নতুন এআই সংস্থাকে, লেখা রয়েছে সেই বিনিয়োগের শর্তে।

অর্থাৎ, টাকাটা সংস্থার এক পকেট থেকে বেরিয়ে অন্য পকেটে ফিরে আসছে। আর এর মাঝে বাজারে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম আয়ের বা রেভিনিউয়ের পাহাড়।

কত টাকা এই লুপে ঘুরছে?

এই লুপের বিষয়টা শুনতে খুব হালকা লাগলেও টাকার পরিমাণ শুনলে কিন্তু কপালে উঠবে চোখ।

  • অ্যান্থ্রোপিক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা অ্যান্থ্রোপিকের গল্পই এখানে শোনা যেতে পারে। এই সংস্থা মাইক্রোসফট ও এনভিডিয়া মিলে বিনিয়োগ করেছে প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। আর তার বিনিময়ে মাইক্রোসফটের থেকে ক্লাউড সার্ভিস ও এনভিডিয়ার থেকে চিপ কিনতে এই সংস্থাকে খরচ করতে হবে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, প্রায় দ্বিগুণ।
  • ওপেন এআই ও ওরাকল: ওরাকলের সঙ্গে ওপেন এআইয়েরও এমন এক অংশীদারিত্ব চলছে। আর এই ক্ষেত্রে ওপেন এআই ক্লাউডের ব্যাকএন্ডের জন্য ভীষণভাবে ওরাকলের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু বিষয়টা হল, ওরাকল প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগে ওপেনও এআইয়ের সঙ্গে এআই সুপার ডেটা সেন্টার তৈরি করছে। যদিও আগামী ৫ বছরে ওপেন এআই ওরাকলকে প্রায় এই পরিমাণ অর্থ ফেরত দেবে।
  • এনভিডিয়া: গত ৫ বছরে এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম বেড়েছে প্রায় ১ হাজার ২২৫ শতাংশের বেশি। এই সংস্থার আজ যা বাজারমূল্য তা গোটা বিশ্বের ওষুধ সংস্থাগুলোর সম্মিলিত বাজার মূল্যের থেকেও বেশি।
  • বিদ্যুতের চাহিদা: টাকার গল্প তো হল। এবার যদি বিদ্যুতের চাহিদা হিসাব করা যায়, তাহলে দেখা যাবে সেই বিদ্যুতে হয়তো কত দেশের গোটা বছর চলে যাবে। টেক্সাসে ওপেনও এআই যে প্রজেক্ট তৈরি করছে সেই ডেটা সেন্টারের যে পরিমাণ বিদ্যুত লাগবে, তাতে পৃথিবীর একটা ছোট দেশের বিদ্যুতের চাহিদা মিটে যাবে। নেক্সট জেনারেশন যে ডেটা সেন্টার, সেগুলোর এক একটার ১ থেকে ৪ গিগাওয়াট বিদ্যুত প্রয়োজন হয়। আর হিসাব বলছে ১ গিগাওয়াটে প্রায় ৭ লক্ষ ৫০ হাজার বাড়িতে গোটা বছর ধরে আলো জ্বলবে। গ্লোবাল ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্ম ম্যাক-কিনসের একটি রিপোর্ট বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে বছরে প্রায় ৭ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করতে হবে।

ডট-কম বাবলের ছায়া?

আপনি হয়তো ভাবছেন, এতে সমস্যা কোথায়? টাকা ঘুরে চলেছে। এটাই তো অর্থনীতির নিয়ম। এই ভাবেই তো টাকা এক সংস্থা থেকে আর এক সংস্থায় যায়। তাহলে? আসলে নব্বইয়ের দশকের শেষ ভাগে ‘ডট.কম বাবল’ ঠিক এভাবেই ফেটেছিল। আর যখন এই বুদবুদ ফেটেছিল একেবারে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল সবটা।

আজও কি তাই হচ্ছে?

আজ, বিষয়টা পুরোপুরি ডটকম বাবলের মতো হচ্ছে, এটা বলা যায় না। কিন্তু একই টাকা যখন বিভিন্ন ভাবে ঘুরছে অর্থাৎ একটা লুপ তৈরি হচ্ছে আর একাধিক সংস্থার ভ্যালুয়েশন তখন সেই অর্থের বিনিয়োগ বা নতুন প্রযুক্তি তৈরি এই সবের কারণে হু হু করে বাড়ছে। সংস্থার খাতায় কলমে রেভেনিউ বাড়ছে বা বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে, কিন্তু বাস্তবে সংস্থার লিক্যুইডিটি বা সংস্থার প্রফিট বাড়ছে না। অথচ ভ্যালুয়েশন হচ্ছে আকাশছোঁয়া।

ইলন মাস্কের গ্রক এআই বা চ্যাটজিপিটি কিম্বা জেমিনাই, সবাই স্বীকার করছে বাজারে এখন একটা বুদবুদ বা বাবল তৈরি হয়েছে। কোনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলছে এটা ফেটে যাবে। যদিও ভাল সংস্থাগুলোর উপর এর প্রভাব নগণ্য হবে। আবার অনেক সংস্থা বলছে এই বুদবুদ নাকি ফাটবে না, এটাই হয়তও ভবিষ্যত। কিন্তু আসল বিষয়টা হল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে, তাহলে কিন্তু এই বিনিয়োগ সার্থক। কিন্তু একবার যদি কোনও কারণে এই অর্থের লুপে একটু গোলমাল হয়, তাহলে ধস নামতে কিন্তু সময় লাগবে না। আর গোটা বিশ্বের শেয়ার বাজার এখন সেই সার্কাসের দড়ির উপর দিয়েই হাঁটছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *