SSC Interview List Published: কার হাসি হল উজ্জ্বল, কারটাই বা ফিকে? SSC-এর ইন্টারভিউয়ে ডাক পেলেন সুমন-চিন্ময়রা? – Bengali News | As new ssc interview list brings hope what happens to the faces of the anti corruption movement
নিরাশা নাকি উচ্ছাস?Image Credit: নিজস্ব চিত্র
কলকাতা: নেতৃত্ব বলতে যেন এই চার। নিয়োগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রায় সর্বক্ষণই পথে দেখা গিয়েছিল তাঁদের। শনিবার সন্ধ্যায় প্রকাশিত হল একাদশ-দ্বাদশের নতুন নিয়োগ প্যানেলের ইন্টারভিউ তালিকা। প্রায় ২০ হাজার অধিক প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন এই পরীক্ষায়। নতুন করে চোখের সামনে আলোর দিশা দেখতে পেয়েছেন বহু চাকরি হারানো প্রার্থীই। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে পথে-ঘাটে তাঁদের আলো দেখাল যে চাকরিপ্রার্থীরা, আজ তাঁদের কী হাল?
হাতেগোনা কয়েকটা নাম। সুমন বিশ্বাস, চিন্ময় মণ্ডল, মেহবুব মণ্ডল ও মেয়েদের মধ্যে সঙ্গীতা সাহা। আন্দোলনের অন্যতম মুখ এরা। দিন হোক বা রাত, করুণাময়ীতে বিকাশ ভবনের সামনে সর্বক্ষণই দেখা গিয়েছে এঁদের। চোখে-মুখে উদ্বেগের ছাপ, প্রতিবাদের ক্লান্তি, নিরাশা ধরা পড়েছে প্রতি মুহূর্তে। কিন্তু শনিবার যখন নতুন নিয়োগ প্যানেলের ইন্টারভিউয়ের তালিকা প্রকাশ হল, তখন কি এঁনাদের কারওর ঠোঁটে সামান্য হলেও হাসির ঝলক দেখা গেল?
চিন্ময় মণ্ডল
এই একাদশ-দ্বাদশের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেননি চিন্ময় মণ্ডল। শিক্ষক আন্দোলনের অন্যতম মুখ তিনি। গোটা আন্দোলন পর্বে দিল্লি-কলকাতা করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। কিন্তু শনির তালিকায় জায়গা হল না চিন্ময়ের। এদিন তিনি বলেন, ‘আশানুরূপ ফল হয়নি। তিন নম্বরের জন্য কাট অফ পেরতে পারলাম না। তবে নবম-দশমটা এখনও রয়েছে। দেখি, কী হয়।’
সুমন বিশ্বাস
এই তালিকায় নাম নেই চাকরিহারানো শিক্ষক সুমন বিশ্বাসেরও। তবে তাতে নিরাশ নন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমার নাম আসেনি। আর আমি তো নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক ছিলাম। তবে এই তালিকায় বহু যোগ্য শিক্ষকের নাম আসেনি। এর কারণ একটাই নতুনদের সঙ্গে পুরনোদের মিশিয়ে দেওয়া। সঙ্গে এই দুই প্রজন্মের মধ্য়ে ঝামেলাও পাকিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাকে এক নতুন আবেদনকারী জানালেন, তিনি ৬০-এ ৬০ পেয়েও ডাক পাননি।’
মেহবুব মণ্ডল
এই তালিকায় নাম উঠেছে মেহবুব মণ্ডলের। আপাতত ভেরিফিকেশনের জন্য ডাক পেয়েছেন তিনি। তথ্য যাচাইয়ের পর হবে ইন্টারভিউ। তবে জীবনের এই পর্বে অন্য যোগ্য শিক্ষকদের হয়েই সওয়াল তুলছেন মেহবুব। তাঁর কথায়, ‘সাত বছর চাকরি করার পরেও বহু শিক্ষক নিজের নাম তুলতে পারেননি। আমরা যাঁরা ২৪ ঘণ্টা আন্দোলন করে গিয়েছি, তাঁদের অনেকেরই নম্বর পর্যাপ্ত হয়নি। রাজ্য সরকারের উচিত সেই সকল শিক্ষকদের কিছু একটা ব্য়বস্থা করা। তাঁরা যেন কোনও ভাবে কর্মহীন না হয়ে পড়েন, সেটা রাজ্য সরকারকে সুনিশ্চিত করতে হবে।’
সঙ্গীতা সাহা
এই তালিকায় নাম তুলেছেন সঙ্গীতাও। রাত জাগা পরিশ্রমের ফল পেলেও তিনি খুশি নন, উচ্ছাস নেই তাঁর। সঙ্গীতার কথায়, ‘বিনা দোষে একটা অসম পরীক্ষায় বসেছি। আমাদের কোনও অপরাধ ছিল না। কিন্তু তাও আমাদের এই জায়গায় ঠেলে পাঠানো হয়েছে। কত কাছের মানুষদের দেখলাম, তাঁরা কাট অফ ক্লিয়ার করতে পারলেন না। যাঁরা পাশ করলেন না, তাঁদের জন্য কি সরকার ভাববে? আদালত ভাববে? অনেকেই ফোন করে বলেছেন, দিদি হল না এবার কী করব?’