Explained: আধার কার্ড থাকলে আপনি নাগরিক নন! কিন্তু কেন? - Bengali News | Why Election Commission Not Interested in Aadhaar Card, What's The Issue With It? - 24 Ghanta Bangla News
Home

Explained: আধার কার্ড থাকলে আপনি নাগরিক নন! কিন্তু কেন? – Bengali News | Why Election Commission Not Interested in Aadhaar Card, What’s The Issue With It?

Spread the love

নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন ঘোষণার একদম প্রথম দিন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় তখন দিঘায়। সেখান থেকেই সরাসরি কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন তিনি। প্রশ্ন তুলেছিলেন, সাধারণ মানুষ কোথা দিয়ে এত কাগজ পাবেন। এসআইআর পর্বের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে বিতর্ক থেকেছে অবধারিত। আর এই বিতর্কের একেবারে শীর্ষে থেকেছে আধার প্রসঙ্গ। এত বছর ধরে যে কার্ডকে প্রতিটি স্তরে গুরুত্ব দিল কেন্দ্র সরকার। নিবিড় পরিমার্জন শুরু হতেই কেন সেটিকে বাদ দিতে উদ্যত্ত হল কমিশন? এই প্রশ্নই তুলেছেন একাংশ। বাংলায় এসআইআর-এর কাজ চলছে। আপাতত ঘরে-ঘরে ফর্মও পৌঁছে গিয়েছে। এবার প্রশ্ন হল নথি দেখানোর পর্বে আধার কার্ড দেখালে কি কাজ হবে? নাকি এই কার্ড নিতে নাকচ করবে কমিশন? সুপ্রিম কোর্ট কী বলছে? কমিশন কি বলছে?

সুপ্রিম কোর্টে SIR

১০ই জুলাই, ২০২৫। দেশের শীর্ষ আদালতে শুরু হল এসআইআর শুনানি। পরপর মামলা। সব গিয়ে জুড়ল একটা মামলার সঙ্গে। যার শুনানির দায়িত্ব গেল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে। এই মামলার প্রথম পর্বেই উঠেছিল আধার প্রসঙ্গ।

শুনানির প্রথম দিনেই কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, আধার কার্ড, ভোটার এবং রেশন প্রয়োজনীয় নথি কিনা তা বিবেচনা করতে হবে কমিশনকে। তাঁরা নানা যুক্তি দিয়েছিল, কিন্তু বিবেচনার জন্য সময়ও নিয়েছিল।

এরপর সাময়িক বিরতি। সপ্তাহখানেকের মধ্যেই একটি হলফনামা জমা দিয়ে শীর্ষ আদালতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেশের শীর্ষ আদালত। তিন ধরনের নথিতেই আপত্তি জানায় তাঁরা। তুলে ধরে যুক্তিও।

  • আধার কার্ড প্রসঙ্গে কমিশন: একাধিক হাইকোর্টের পুরনো মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে কমিশন। এই মামলার রায়গুলিতে আধার কার্ড ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারে না বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসের পর থেকে যে আধার কার্ডগুলি দেওয়া হয়েছে, সেখানেও এই সংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট সতর্কীকরণও করে দেওয়া হয়েছে।
  • রেশন কার্ড প্রসঙ্গে কমিশন: তাঁদের দাবি, দেশে প্রচুর ভুয়ো রেশন কার্ড রয়েছে। তাই এটির উপর পুরোপুরি ভরসা করা যায় না।
  • ভোটার কার্ড প্রসঙ্গে কমিশন: যেহেতু ভোটার তালিকাই সংশোধন করা হচ্ছে, তাই ভোটার কার্ডকে কোনও নথি হিসাবে দেখানো নিরর্থক।

কমিশনের এই হলফনামার প্রভাব পড়েছিল পরবর্তী শুনানিতেও। ১২ অগস্ট। সেদিন কমিশনের যুক্তিতেই সায় দেয় শীর্ষ আদালত। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, আধার নাগরিকত্বের প্রমাণ হতে পারে না। এই নথির ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে এই শুনানির পর আধার কার্ডের প্রসঙ্গ যে একেবারে থেমে যায় এমনটাও নয়। পরবর্তী শুনানিতে ফের ওঠে আধার প্রসঙ্গ। বিহারে নাম বাদ পড়া ভোটারদের স্বার্থে আধারকে প্রাথমিক ভাবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সায় দেয় শীর্ষ আদালত। ডিভিশন বেঞ্চ বলেছিল, ‘পরিচয়পত্রের প্রামাণ্য নথি হিসাবে ভোটাররা আধার কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। তাই এটিকে প্রামাণ্য নথি হিসাবে যুক্ত করা যেতে পারে।’ অর্থাৎ এসআইআর প্রক্রিয়ায় এই প্রথম ১২তম নথি হিসাবে গণ্য হল আধার কার্ড। এই শুনানি পর্বে আধারকে শুধুমাত্র বিহারের জন্যই সীমিত রাখে শীর্ষ আদালত। এরপর ৭ই অক্টোবরের শুনানিতে অবশেষে গোটা দেশে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের ক্ষেত্রে আধার কার্ডকে পরিচয়পত্র হিসাবে জুড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।

তা হলে আধার প্রসঙ্গ শেষ? রয়েছে এসআইআর, সঙ্গে রয়েছে আধার কার্ড প্রসঙ্গও। একেবারে শেষ শুনানি, তাতেও উঠল আধার কার্ড প্রসঙ্গ। আবার সেই পুরনো কথা টেনে ধরল শীর্ষ আদালত। ডিভিশন বেঞ্চের সাফ নির্দেশ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আধার কার্ডকে গুরুত্ব দিতে হবেই। তবে সেটা নাগরিকত্বের প্রামাণ্যপত্র হিসাবে নয়। আর এই নির্দেশে কেউ পেন বোলাতে পারবে না বলেও পরিষ্কার করে দিয়েছেন বিচারপতিরা। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর কথাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুনানি পর্বে তিনি বলেন, ‘কোনও সরকারি প্রতিষ্ঠানই আইনের ভিত বা তাঁর প্রাথমিক স্তরে কোনও পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন আধার কার্ডকে পরিচয় প্রামাণ্য় হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তো যতক্ষণ না সেটা নিয়ে কেউ আদালতে চ্যালেঞ্জ বা ওই স্বীকৃতিকে সংশোধন করা হচ্ছে, ততক্ষণ এটির পরিবর্তন ঘটছে না।’

গুরুত্ব নাকি কাগুজে গুরুত্ব?

সুপ্রিম কোর্ট, বিচারপতিদের বক্তব্য খুব গুরু গম্ভীর। শুনতেও তেমনই লাগে। কিন্তু বাস্তবে কী পরিস্থিতি? কমিশনের কাছে আপনি এই আধার কার্ড নিয়ে গেলে আপনার নামে লাল কালি পড়বে না তো? ওয়াকিবহাল মহল বলছে, লাল কালির দাগ পড়ার মতো পরিস্থিতি হয়তো তৈরি হবে না। তবে আধার কার্ড সংশয় তো একটু রয়েছেই।

এই যেমন যদি এসআইআর-র কাজে বা সহজ ভাষায় নতুন সংশোধিত ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য কেউ যদি জন্ম শংসাপত্র দেখান, তা হলে আর কিছুই প্রয়োজন নেই। এমনকি, পাসপোর্ট, সেটাও একেবারে ব্রহ্মাস্ত্র। তবে সেই দু’টিই নয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যাঙ্কের কোনও সিলমোহর দেওয়া কাগজ, জাত শংসাপত্রের মতো মোট ১১টি কাগজের মধ্যে যে কোনও একটি দেখাতে পারলেই কমিশন বলছে, ‘আপনি পাশ।’ এমনকি জমির পরচা, সেটা দেখাতে পারলেও নিবিড়-পরীক্ষায় সংশ্লিষ্ট ভোটার পাশ করে যাচ্ছেন। কিন্তু এই জমির পরচা নিয়েও বেশ বিতর্ক রয়েছে। একাংশের রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীরা দেশে প্রবেশ করে অবৈধ উপায়ে জমি-বাড়ি তৈরি করে নিয়েছেন। তবু জমির পরচায় ‘অসুবিধা’ নেই কমিশনের। তবে অসুবিধা রয়েছে আধার কার্ডে। শুধুমাত্র আধার কার্ডে। নিজের নথি হিসাবে যদি কোনও ভোটার এই কাগজ ব্যবহার করেন, তা হলে তা গ্রাহ্য না হওয়ার সম্ভবনাই বেশি। কারণ কমিশন বলছে, আধার কার্ড নাগরিক প্রামাণ্য নয়, পরিচয় প্রামাণ্য।

আইন কী বলছে?

একই কথা বলছে আইনও। ২০১৬ সালের আধার আইনের ধারা ৯-র (১) অনুযায়ী, আধার নম্বর কখনও নাগরিকত্ব প্রমাণ বা ঠিকানার প্রমাণপত্র নয়। ২০১৮ সালে বিচারপতি কে এস পুট্টুস্বামী বনাম কেন্দ্রীয় সরকারের মামলার রায়েও উঠে এসেছিল সেই প্রসঙ্গ। যেখানে সুপ্রিম কোর্ট আধার কার্ডকে সাংবিধানিক মর্যাদা দিলেও, এর ব্যবহার নিয়ে বেশ কয়েকটি সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে দিয়েছিল। সেই রায়ে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আধার কার্ড একজন নাগরিকের পরিচয়পত্র হতে পারে। কিন্তু নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র বা ঠিকানার প্রমাণপত্র নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *