Air Pollution: ‘দোষারোপের রাজনীতি পরে করবেন…’, ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙল দিল্লিবাসীর, বায়ুদূষণ নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতেই আটক – Bengali News | Delhi People Protest Over Raising Air Pollution & Poor AQI, Police Detain them
বিক্ষোভকারীদের আটক করল পুলিশ।Image Credit: PTI & ANI
নয়া দিল্লি: দূষণে দমবন্ধ। বাড়ি থেকে বের হওয়ার জো নেই, কিন্তু পেটের দায় যে বড় দায়। সেই কারণেই রোজ বিষ নিঃশ্বাস নিতে হচ্ছে দিল্লিবাসীকে। এদিকে দূষণ কমানোর থেকে রাজনৈতিক দলগুলি একে-অপরকে দোষারোপ করতেই ব্যস্ত। এবার ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙল দিল্লিবাসীর। ক্রমবর্ধমান দূষণ এবং তা রুখতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েই বিক্ষোভ দেখালেন বাসিন্দারা। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্য়েই বিক্ষোভকারীদের আটক করল পুলিশ।
দিল্লিতে বাতাসের গুণমান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স পৌঁছেছে ৩৭০-এ, যা ‘অতি খারাপ’। কোনও কোনও জায়গায় বাতাসের গুণমান ৪০০-ও পার করেছে। এই পরিস্থিতিতে শিশু সহ বহু মানুষ ইন্ডিয়া গেটের কাছে মান সিং রোডে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। তাদের হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘স্মগ সে আজাদি’, ‘শ্বাস নিলেই মৃত্যু’ ইত্যাদি।
এক বিক্ষোভকারী বলেন, “এটা একটা স্বাস্থ্য ইমার্জেন্সি। কোনও দোষারোপ করার খেলা নয়। সরকারকে এবার স্বচ্ছ বাতাসের নীতি তৈরি করতেই হবে। বড়লোকরা এয়ার পিউরিফায়ার কিনতে পারে, পাহাড়ে পালিয়ে যেতে পারে, আমাদের কী হবে? প্রতি বছর শীতকালে আমাদের লড়াই করতে হয় শুধুমাত্র শ্বাস নেওয়ার জন্য। হাওয়া সরকারি নয়, সবার।”
আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, “গরিব মানুষ, যারা রাস্তায় দোকান নিয়ে বসেন, অটোচালকরা এই দূষণে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। বাস-অটো থেকে নির্গত ধোঁয়া ৮০ শতাংশ দূষণ সৃষ্টি করছে। গাড়ি নিয়ে সমস্যা জানি, কিন্তু সরকার যদি ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ গণপরিবহনের মডেল শুরু করতে না পারে, তাহলে মানুষ কীভাবে বদলাবে? বেজিং তো পেরেছে।”
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পড়ুয়া বলেন, “প্রতি শীতে আমার কাশির সঙ্গে রক্ত পড়ে, বুকে ব্যথা হয়, তাও সরকার পঞ্জাবের কৃষকদের বা আগের সরকারকেই দোষ দিতে ব্যস্ত। একে অপরের দিকে আঙুল না তুলে এরা কেন বিকল্প কোনও উপায় খুঁজে বের করে না।”
সরকার বদলালেও, সাধারণ মানুষের কষ্ট কমেনি, দূষণ নিয়ে কোনও সুরাহা হয়নি বলেই বিক্ষোভ দেখান সাধারণ মানুষ। তবে কিছুক্ষণ পরই পুলিশ ও প্যারামিলিটারি বাহিনী এসে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখানো হলেও, পুলিশ শিশু সহ বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করে। আন্দোলনের উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, পুলিশের তরফ থেকে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল যাতে বিক্ষোভ দেখানো না হয়।
এদিকে, পুলিশ সাফাই দিয়ে বলেছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হলেও, সতর্কতাবশে কিছু বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়েছিল।